গ্রীন রুম

ইম্পা দখল নিয়ে রণক্ষেত্র টলিপাড়া, পিয়া-শতদীপ সংঘাত চরমে

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের ঢেউ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল টলিউডের স্টুডিও পাড়ায়। বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে প্রথমবার গেরুয়া শিবির ক্ষমতায় আসতেই ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন বা ইম্পা-র দখল নিতে সরব হলেন বিজেপি সমর্থক সদস্যরা। বর্তমান সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তর পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার ইম্পা অফিসে চলল গঙ্গাজল ছিটিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’ এবং গেরুয়া আবির খেলা। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই সামনে এল পিয়া সেনগুপ্ত বনাম শতদীপ সাহার ব্যক্তিগত সংঘাতের খবর।

ইম্পা অফিসে বিক্ষোভ ও শুদ্ধিকরণ

মঙ্গলবার বিকেলে রতন সাহা, মিলন ভৌমিক এবং শতদীপ সাহাদের নেতৃত্বে একদল সদস্য ইম্পা অফিসে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের দাবি, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিশেষ বৈঠক ডাকতে হবে এবং পিয়া সেনগুপ্তকে পদত্যাগ করতে হবে। বিক্ষোভকারীরা অফিসের ভেতরে জয় শ্রীরাম ধ্বনি দেওয়ার পাশাপাশি গঙ্গাজল ছিটিয়ে প্রতীকী শুদ্ধিকরণও করেন। তাঁদের অভিযোগ, বিগত ১৫ বছর ধরে এখানে একনায়কতন্ত্র ও দুর্নীতি চলেছে।

‘মাকে মারতে তেড়ে এসেছিল শতদীপ’, বিস্ফোরক বনি

এই ডামাডোলের মধ্যেই রটে যায় যে, প্রদর্শন শতদীপ সাহা পিয়া সেনগুপ্তকে তেড়ে মারতে গিয়েছেন। এই প্রসঙ্গে পিয়া-পুত্র অভিনেতা বনি সেনগুপ্ত সংবাদমাধ্যমের কাছে ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন:

  • “ঘটনাটি মঙ্গলবারের নয়, ইম্পার নির্বাচনের দিনের। সেদিন তর্কের মাঝে মায়ের দিকে তেড়ে গিয়েছিল শতদীপ।”
  • বনির অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলাতেই এখন অনেকে ‘ডিগবাজি’ খাচ্ছেন।
  • ইম্পা কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয় দাবি করে বনি প্রশ্ন তোলেন, “আমরা কখনও ওখানে ‘জয় বাংলা’ বলিনি, কিন্তু ওরা কেন জয় শ্রীরাম বলে রাজনৈতিক রং লাগাচ্ছে?”

পাল্টা চ্যালেঞ্জ শতদীপের: ‘সিসিটিভি ফুটেজ দেখান’

বনির অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছেন শতদীপ সাহা। তিনি সাফ জানান, কারোর গায়ে হাত তোলা তাঁর সংস্কৃতিতে নেই। শতদীপের বক্তব্য:

  • “ইম্পাতে সিসিটিভি আছে, ফুটেজ দেখিয়ে প্রমাণ করা হোক যে আমি পিয়া সেনগুপ্তর গায়ে হাত তুলেছি বা গালিগালাজ করেছি।”
  • তাঁর পালটা প্রশ্ন, “এটা আপৎকালীন পরিস্থিতি। বৈঠকের জন্য কেন ১৪ দিন অপেক্ষা করতে হবে? উনি গদি হারানোর ভয় পাচ্ছেন কেন? পদে থেকে কী এমন দুর্নীতি করেছেন যে ছাড়তে পারছেন না?”
  • শতদীপ আরও দাবি করেন, তাঁর কাছে দুর্নীতির একাধিক প্রমাণ রয়েছে।

টলিউডে নতুন সমীকরণ

বুধবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ ইম্পার বিজেপি সমর্থক সদস্যরা নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে একটি জরুরি মিটিং ডেকেছেন। এককালে অরূপ বিশ্বাসদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ইম্পার অন্দরে এখন গেরুয়া দাপট পরিষ্কার। পিয়া সেনগুপ্তর নেতৃত্ব এখন অস্তিত্বের সংকটে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, নবান্নের পর এবার টলিপাড়ার প্রশাসনিক ক্ষমতাও যে হাতবদল হতে চলেছে, মঙ্গলবারের ‘গঙ্গাজল ছিটিয়ে শুদ্ধিকরণ’ এবং আবির খেলাই তার স্পষ্ট ইঙ্গিত। এখন দেখার, বনি-শতদীপ বা পিয়া সেনগুপ্তদের এই বাকযুদ্ধ আইনি পথে গড়ায় নাকি টলিউডের সিংহাসন বদলের মাধ্যমেই এর নিষ্পত্তি হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *