আজকের দিনেভারত

তেলের দামে আগুন ও মোদির ‘সতর্কবার্তা’, সোমবার খুলতেই ১০০০ পয়েন্টের বেশি ধসল সেনসেক্স

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: সপ্তাহের শুরুতেই বড়সড় ধসের মুখে ভারতের শেয়ারবাজার। পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং অপরিশোধিত তেলের আকাশছোঁয়া দামের জেরে সোমবার সকাল থেকেই ‘রক্তক্ষরণ’ শুরু হয়েছে দালাল স্ট্রিটে। বাজার খোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেনসেক্স ১০০০ পয়েন্টের বেশি নিচে নেমে যায়, যার জেরে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
​বাজারের বর্তমান চিত্র:
রিপোর্ট অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে বিএসই সেনসেক্স ১০১৬.৬২ পয়েন্ট কমে ৭৬,৩১১.৫৭ পয়েন্টে থিতু হয়। অন্যদিকে, এনএসই  নিফটি ২৯৭ পয়েন্ট পড়ে গিয়ে ২৩,৮৭৯.১৫ পয়েন্টে লেনদেন শুরু করে। প্রতিবেদনটি লেখার সময় পর্যন্ত সেনসেক্স ১.২৫ শতাংশ এবং নিফটি ০.৯৪ শতাংশ নিম্নমুখী ছিল। শুধু মূল সূচক নয়, বড় পতন দেখা গিয়েছে ব্যাঙ্ক নিফটিতেও, যা প্রায় ৫৪৩ পয়েন্ট নিচে অবস্থান করছে।
​পতনের নেপথ্যে প্রধান কারণসমূহ:
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধসের পিছনে মূলত দুটি বড় কারণ কাজ করছে,  ​তেলের দাম ও পশ্চিম এশিয়ার সংকট: ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৫ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। আমেরিকার তরফে ইরানের শান্তিপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
​প্রধানমন্ত্রীর কড়া বার্তা: পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীর প্রতি আমদানিকৃত পণ্যের ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে পেট্রোল-ডিজেল, সোনা, ভোজ্য তেল এবং রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ এড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারে।
যাঁরা লোকসানের মুখে:
এদিনের বাজারে সবথেকে বেশি ধাক্কা খেয়েছে ব্যাঙ্কিং এবং বিমান পরিষেবা সংস্থাগুলি। উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গিয়েছে নিচের শেয়ারগুলিতে:
​এএবি ইন্ডিয়া লিমিটেড: ৯.০৮% পতন
​টাইটান: ৬.৫২% পতন
​ইন্ডিগো: ৪.৭৭% পতন
​টাটা মোটরস: ৪.০১% পতন
​স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া: ৩.৭৬% পতন
​বিপরীত স্রোতে যে শেয়ারগুলি:
বাজারের এই মন্দার মধ্যেও কিছু সংস্থার শেয়ার ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো টাটা কনজিউমার প্রোডাক্ট (+৪.৫৮%), হুন্ডাই মোটর ইন্ডিয়া (+২.৩৩%), আদানি গ্রিন (+২.০৯%) এবং সান ফার্মা (+১.৬০%)।
বিশ্ববাজারের এই অস্থিরতা কতদিন স্থায়ী হয়, এখন সেদিকেই নজর বিশেষজ্ঞদের। তবে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ না হলে এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা না কমলে আগামী কয়েকদিন বাজার যথেষ্ট উদ্বায়ী (Volatile) থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *