গরু পাচার ও সিন্ডিকেট রাজ রুখতে কড়া পদক্ষেপ, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম দিনেই ‘অ্যাকশন’ মুডে শুভেন্দু
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: বাংলায় সরকার পরিবর্তনের পর প্রথম প্রশাসনিক দিনেই বড়সড় রদবদল ও কড়া বার্তার ইঙ্গিত দিলেন নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে পা রেখেই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, রাজ্যে ‘সিন্ডিকেট রাজ’ এবং ‘গরু পাচার’ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। নবান্ন সূত্রে খবর, দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জেলা পুলিশ সুপারদের এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।
নবান্নে রাজকীয় অভ্যর্থনা ও মন্ত্রিসভার বৈঠক:
এদিন বেলা ১১টা নাগাদ নবান্নে পৌঁছলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে বর্ণাঢ্য ‘গার্ড অফ অনার’ দেওয়া হয়। এরপরই তিনি যোগ দেন নতুন বিজেপি সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে। মন্ত্রিসভার এই প্রথম বৈঠকেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
প্রশাসনিক স্তরে বড় রদবদল:
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে রদবদল শুরু করে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিবালয় বা সিএমও দপ্তরে বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। দক্ষ ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির আধিকারিকদের এই দপ্তরে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
ঠাসা কর্মসূচি ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক:
আজ সারাদিন নবান্নে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠক করার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর:
সচিব পর্যায়ের বৈঠক: প্রশাসনের শীর্ষ সচিবদের সঙ্গে কাজের গতিপ্রকৃতি নিয়ে আলোচনা।
জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক: জেলাস্তরের উন্নয়ন ও পরিষেবা নিয়ে পর্যালোচনা।
পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক: বিকেলে রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং বিভিন্ন জোনের উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে মেগা বৈঠক করবেন তিনি।
পাচার ও সিন্ডিকেট রুখতে বিশেষ নজর:
সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠক থেকে পুলিশ ও প্রশাসনকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, সীমান্ত এলাকায় গরু পাচার এবং রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সিন্ডিকেট চক্রের দাপট অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এই কাজে কোনো রাজনৈতিক রং দেখা হবে না বলেও জানানো হয়েছে।
সরকার বদলের পর প্রথম দিনেই মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘অ্যাকশন’ মুড দেখে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, প্রশাসনের স্তরে বড়সড় শুদ্ধিকরণই এখন শুভেন্দু অধিকারীর মূল লক্ষ্য। দিন শেষে এই বৈঠকগুলো থেকে আর কী কী নতুন নির্দেশিকা বেরিয়ে আসে, সেদিকেই নজর রয়েছে গোটা রাজ্যের।
