আজকের দিনেসুস্থ থাকুন

মাসের ওই দিনগুলোয় প্রেমিকার খিটখিটে মেজাজ? পুরুষদের জন্য রইল ‘হ্যান্ডলিং গাইড’

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:  পিরিয়ডের ওই বিশেষ ৪-৫ দিন বেশিরভাগ নারীর কাছেই এক প্রকার বিভীষিকা। তলপেটে ও কোমরে অসহ্য যন্ত্রণা, মাথা ব্যথা, শরীরজুড়ে ক্লান্তি— এসব তো লেগেই থাকে। তবে কেবল পিরিয়ডের দিনগুলোই নয়, তার আগের কয়েকটা দিনও হরমোনের ওঠানামার কারণে নারীদের শারীরিক ও মানসিক স্তরে ব্যাপক পরিবর্তন আসে, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় পি এম এস (প্রিমেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম) নামে পরিচিত।

বিশেষজ্ঞ এবং আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের মতে, প্রায় ৮০ শতাংশ নারীই পিরিয়ড শুরুর আগে থেকে বিভিন্ন উপসর্গের মুখোমুখি হন। এই সময়ে খিটখিটে মেজাজ এবং সঙ্গীর ওপর কারণে-অকারণে রেগে যাওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

কেন এই সময়ে মেজাজ খিটখিটে হয় এবং এই পরিস্থিতি সামলানোর উপায় কী, তা নিচে আলোচনা করা হলো:

পিরিয়ডের আগে মুড সুইং বা খিটখিটে মেজাজের কারণ

  • অতিরিক্ত আবেগপ্রবণতা: হরমোনের পরিবর্তনের কারণে এই সময়ে নারীরা অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়েন। সামান্য কারণেই কান্না পাওয়া, চিৎকার করা বা তীব্র মানসিক অবসাদ গ্রাস করতে পারে। অনেকে এই সময়ে একা থাকতে পছন্দ করেন, আর তাতে বাধা পেলেই বিরক্তি বাড়ে।

  • খাবারে অরুচি: পিরিয়ড শুরুর আগে অনেকেরই খাওয়ার ইচ্ছে চলে যায়। আর খালি পেটে থাকলে মুড সুইংয়ের সমস্যা আরও দ্বিগুণ হয়ে যায়। শরীর ভেতর থেকে দুর্বল থাকায় নারীরা কাছের মানুষের ওপর রাগ উগরে দেন।

  • মানসিক চাপ ও ফোবিয়া: পিরিয়ডের রক্ত পোশাকে লেগে যাওয়ার ভয় বা লোকলজ্জার একটা সুপ্ত উদ্বেগ অবচেতন মনে কাজ করে। এই ভয়ংকর মানসিক চাপ থেকেই মূলত মেজাজ হারানোর প্রবণতা তৈরি হয়।

  • অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা: পিরিয়ড ও শারীরিক যন্ত্রণার সঙ্গে মনের গভীর যোগসূত্র রয়েছে। অতীতের পিরিয়ডকালীন কষ্টের অভিজ্ঞতা অনেক সময় মনকে বিষিয়ে তোলে, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে খিটখিটে ব্যবহারে।

এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার উপায়

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দিনগুলিতে সামান্য জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং ডায়েটের দিকে নজর দিলে শারীরিক ও মানসিক কষ্ট অনেকটাই কমানো সম্ভব।

১. সঠিক খাদ্যতালিকায় জোর দিন

শরীরে পুষ্টির অভাব হলে মুড সুইং বেশি হয়। তাই এই সময়ে পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত। ডায়েটে প্রচুর পরিমাণে তাজা ফল এবং প্রোটিন জাতীয় খাবার রাখুন, যাতে রক্তাল্পতা (Anemia) বা শারীরিক দুর্বলতা না আসে।

২. হাইড্রেটেড থাকুন ও পর্যাপ্ত ঘুমান

শরীরকে সুস্থ রাখতে প্রচুর পরিমাণে জল ও জলজাতীয় খাবার খান। দিনে অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ভালো ঘুম হওয়া অত্যন্ত জরুরি। পর্যাপ্ত বিশ্রাম শরীর ও মন দুটোকেই শান্ত রাখতে সাহায্য করে।

৩. যোগব্যায়াম করুন

মানসিক উদ্বেগ ও মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিনে অন্তত আধ ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা হালকা যোগাভ্যাস বা প্রাণায়াম করতে পারেন। এটি এন্ডোরফিন (হ্যাপি হরমোন) নিঃসরণে সাহায্য করে মেজাজ ফুরফুরে রাখে।

সঙ্গীর ভূমিকা হওয়া উচিত সংবেদনশীল

এই বিশেষ সময়ে নারীর খিটখিটে মেজাজ দেখে পুরুষ সঙ্গীর চটে যাওয়া উচিত নয়। বরং পরিস্থিতি বুঝে তাঁকে আরও বেশি সংবেদনশীল ও যত্নশীল হতে হবে। কোনো বিষয়ে বিতর্ক তৈরি হলে সঙ্গীকে শান্ত করার চেষ্টা করুন এবং ঝগড়া এড়িয়ে চলুন। সঙ্গীর একটুখানি সহানুভূতি ও ভালোবাসা এই কঠিন দিনগুলোকে অনেক সহজ করে তুলতে পারে, যা সম্পর্কের বাঁধনকেও আরও মজবুত করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *