আজকের দিনেতিলোত্তমারাজনীতি

বাংলার মসনদে এবার কে? মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে এগিয়ে কারা?

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: ছাব্বিশের নির্বাচনে বাংলায় ঐতিহাসিক জয়ের পর এখন রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— কে হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? মঙ্গলবারই বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা রাজ্যে আসতে পারেন বলে সূত্রের খবর। তাঁদের উপস্থিতিতে পরিষদীয় দলের বৈঠকেই চূড়ান্ত হবে নাম। আগামী ২৫ বৈশাখ শপথ নিতে পারেন বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী পদের লড়াইয়ে সবচেয়ে এগিয়ে শুভেন্দু

বিজেপির এই অভাবনীয় জয়ের কারিগর হিসেবে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নামই আপাতত সবার আগে রয়েছে।

  • সাফল্য: নন্দীগ্রামের পর এবার ভবানীপুরে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে নিজের রাজনৈতিক গুরুত্ব প্রমাণ করেছেন তিনি।

  • নেতৃত্ব: তৃণমূলের বিরুদ্ধে সমানে সমানে লড়াই করার মানসিকতা কর্মীদের মধ্যে তৈরি করতে সফল হয়েছেন তিনি।

  • সমর্থন: বিরোধী দলনেতা হিসেবে দলের বিধায়কদের একাংশের বড় সমর্থন তাঁর দিকে রয়েছে।

তবে শুভেন্দুর ক্ষেত্রে একমাত্র প্রতিবন্ধকতা হতে পারে তাঁর ‘আদি বিজেপি’ না হওয়া এবং আরএসএস-এর সঙ্গে সরাসরি যোগ না থাকা।

রয়েছে আরও বেশ কিছু হেভিওয়েট নাম

বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সাম্প্রতিককালে মধ্যপ্রদেশ বা রাজস্থানের মতো রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ‘চমক’ দিতে পছন্দ করছে। সেক্ষেত্রে বাংলার জন্য অন্য কোনো নামও উঠে আসতে পারে:

  • শমীক ভট্টাচার্য: বর্তমান রাজ্য সভাপতি এবং সংঘের পুরনো লোক হিসেবে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা যথেষ্ট। তাঁর বাগ্মিতা এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তাঁকে লড়াইয়ে রেখেছে।

  • দিলীপ ঘোষ: দলের আদি অংশের নেতা এবং আরএসএস ঘনিষ্ঠ হিসেবে দিলীপবাবুর নামও অনেকে জোরালোভাবে বলছেন।

  • স্বপন দাশগুপ্ত: মোদি-শাহ ঘনিষ্ঠ এই প্রবীণ নেতা বাজপেয়ীর আমল থেকেই দলের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর নামও আলোচনার টেবিলে রয়েছে।

বিজেপির ‘চমক’ দেওয়ার সম্ভাবনা

যেহেতু বিজেপি তিন-চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তাই মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কোনো পরীক্ষানিরীক্ষা বা ‘আউট অফ দ্য বক্স’ কোনো হিন্দুত্ববাদী মুখকে সামনে আনতে পারে কি না, তা নিয়েও জল্পনা চলছে। সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে মঙ্গলবার বিকেলের বৈঠকের পর। আপাতত শুভেন্দু অধিকারী দৌড়ে এগিয়ে থাকলেও, শেষ হাসি কে হাসবেন, তা নির্ভর করছে দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *