সোনার বাংলায় নতুন সূর্যোদয়: টলিপাড়ায় পালাবদলের ঢেউ, মিশ্র প্রতিক্রিয়া শিল্পীমহলে
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: দীর্ঘ ১৫ বছরের ঘাসফুল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলার মসনদে এখন পদ্মশিবির। ছাব্বিশের নির্বাচনে তৃণমূলকে উৎখাত করে বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই টলিপাড়ায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কেউ নতুন সরকারকে দু’হাত ভরে আশীর্বাদ করছেন, কেউ বা আবার ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দিহান।
শিল্পীদের ক্ষোভ ও টলিগঞ্জে পালাবদল
বিগত দেড় দশকে ইন্ডাস্ট্রিতে দাপট দেখানো অনেক নেতার পরাজয়ে টলিপাড়ার অন্দরে খুশির আমেজ দেখা দিয়েছে।
-
অরূপ বিশ্বাসের পরাজয়: টলিগঞ্জের দীর্ঘদিনের বিধায়ক অরূপ বিশ্বাসের হারে ব্যক্তিগত ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিনেতা সুজয় প্রসাদ। তিনি সরাসরি জানান যে, অরূপ বিশ্বাসের মতো মানুষের পরাজয়ে তিনি অত্যন্ত খুশি।
-
রাজনীতির নাগপাশ থেকে মুক্তি: রূপাঞ্জনা মিত্রের মতো অভিনেত্রীরা আশা করছেন, এবার অন্তত ইন্ডাস্ট্রি রাজনীতির নাগপাশ থেকে মুক্ত হবে। ব্যঙ্গাত্মক পোস্টে তিনি বিদায়ী সরকারকে খোঁচা দিতেও ছাড়েননি।
তারকাদের প্রতিক্রিয়া: কে কী বললেন?
বাংলা চলচ্চিত্রের বড় পর্দা থেকে ড্রয়িংরুম—সব জায়গার তারকারাই এখন মুখ খুলছেন:
-
জিৎ: টলিউডের ‘বস’ বিজেপির এই বিপুল জয়ে উচ্ছ্বসিত এবং নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
-
মিমি চক্রবর্তী: প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ হওয়া সত্ত্বেও বিজেপি প্রার্থী তথা আরজি করের নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথের জয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি। তবে মনে করিয়ে দিয়েছেন, কোনো জয়ই সন্তান হারানোর যন্ত্রণা মেটাতে পারে না।
-
অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়: অভিনেত্রী তথা তৃণমূল কাউন্সিলর বিজেপির জয়কে স্বাগত জানালেও, তাঁর ওয়ার্ডে তৃণমূল কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় সরব হয়েছেন এবং বিজেপি নেতৃত্বকে কর্মীদের সংযত রাখার আর্জি জানিয়েছেন।
-
সাহেব চট্টোপাধ্যায়: ২০১১ সালের পরিবর্তনের স্মৃতিচারণ করে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, গদিতে যারাই আসুক, বাংলার যেন ভালো হয়।
-
অনিন্দ্য: লবির রাজনীতিতে গা না ভাসিয়ে স্ট্রাগল করা এই অভিনেতা আশা প্রকাশ করেছেন যে, আগামী দিনেও যেন মাথা উঁচু করে কাজ করতে পারেন।
ভবিষ্যৎ নিয়ে দোলাচল
অন্যদিকে, অভিনেত্রী মৈত্রয়ী মিত্রের গলায় শোনা গিয়েছে সাবধানবাণী। “যেই যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ”—এই প্রবাদ মনে করিয়ে দিয়ে তিনি নতুন সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা ও আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছেন। সুদীপা চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে অনেকেই আবেদন জানিয়েছেন, এলাকায় যেন শান্তি বজায় থাকে এবং কোনো প্ররোচনায় কেউ পা না দেয়।
সব মিলিয়ে, বাংলার রাজনীতিতে ‘সোনার বাংলার নতুন ভোর’ আসলেও, টলিউডের একাংশ কিন্তু ইন্ডাস্ট্রির কাজের পরিবেশ ও নিরপেক্ষতা নিয়ে এখনো সন্ধিহান। এবার দেখার, নতুন সরকার শিল্পীদের এই প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে।
