ফলপ্রকাশের আগে ফের ভোলবদল! তৃণমূলকে শর্তসাপেক্ষে সমর্থনের বার্তা হুমায়ুন কবীরের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,বহরমপুর: ভোটের ফল ঘোষণার ঠিক দু’দিন আগে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেললেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। এককালে তৃণমূলের দাপুটে নেতা তথা ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়ক এবার শাসক শিবিরের দিকে ‘সন্ধি’র হাত বাড়ালেন। তবে তাঁর এই প্রস্তাবের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন এক বিতর্কিত শর্ত।
‘হাঁটু গেড়ে ক্ষমা চাইলে’ সমর্থনের ভাবনা
শনিবার বহরমপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে হুমায়ুন কবীর জানান, তৃণমূল যদি সরকার গঠনে তাঁর সাহায্য চায়, তবে তিনি তা বিবেচনা করতে পারেন। তাঁর কথায়, “তৃণমূল যদি হাঁটু গেড়ে আমার কাছে ক্ষমা চায় এবং বলে যে যা হয়েছে ভুল হয়েছে, দুর্নীতি করা ভুল হয়েছে আর দুর্নীতি করব না, তাহলে তখন সমর্থন করার ভাবনাচিন্তা করব।”
মমতা-অভিষেককে কড়া আক্রমণ
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে আক্রমণ করতেও ছাড়েননি হুমায়ুন। আগামী ৪ মে ফল প্রকাশের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “চৌঠা মে-র পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দুবাই চলে যাবেন আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে সংকীর্তন করবেন।”
ছত্রভঙ্গ আমজনতা উন্নয়ন পার্টি
দলবিরোধী মন্তব্যের জেরে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর হুমায়ুন কবীর নিজের দল ‘আমজনতা উন্নয়ন পার্টি’ গঠন করেছিলেন। এবারের নির্বাচনে ১৮২টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা থাকলেও:
-
ভোটের আগেই প্রায় ৮০ জন প্রার্থী তাঁর দল ছেড়ে প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে নেন।
-
বিজেপির সঙ্গে মোটা অঙ্কের ‘ডিল’ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় দলের ভাবমূর্তি বড়সড় ধাক্কা খায়।
-
লড়াইয়ের আগেই কার্যত নেতৃত্বহীন ও ছন্নছাড়া হয়ে পড়ে তাঁর দল।
ভোটের ফল প্রকাশের আগে হুমায়ুন কবীরের এই সুরবদল এবং ক্ষমা চাওয়ার শর্ত নিয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনীতির কারবারিদের মতে, নিজের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখতেই ফলের আগে এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করছেন এই প্রবীণ নেতা। এখন দেখার, ৪ মে ইভিএম খোলার পর হুমায়ুন কবীরের এই ‘সমর্থনের শর্ত’ কোনো গুরুত্ব পায় কি না।
