আজকের দিনেতিলোত্তমা

জিতলে ‘মোদি ম্যাজিক’, হারলে কার? বিজেপির অন্দরে শুরু দায়বদ্ধতার লড়াই

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলা জয় করতে কোনো কসুর বাকি রাখেনি বিজেপি। দিল্লি থেকে কার্যত গোট দেশকেই কলকাতায় তুলে এনেছিলেন নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ। তবে দুই দফার ভোট মিটতেই এখন গেরুয়া শিবিরের অন্দরে সবথেকে বড় প্রশ্ন— ফল যদি আশানুরূপ না হয়, তবে সেই হারের দায় নেবে কে?

রেকর্ড প্রচার ও মোদি-শাহর ‘ঘাঁটি’

এবারের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কার্যত ‘ডেলি প্যাসেঞ্জারি’ করেছেন বাংলায়। ২৪টির বেশি জনসভা এবং ৪টি মেগা রোড-শো করেছেন তিনি। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এক সপ্তাহেরও বেশি সময় কলকাতায় ঘাঁটি গেড়ে পড়েছিলেন। সভা ও রোড-শো মিলিয়ে তাঁর উপস্থিতির সংখ্যা ৪০ ছুঁয়েছে, যা একপ্রকার রেকর্ড।

ওয়াররুমে বসে রণনীতি ঠিক করা থেকে শুরু করে বুথ ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ— সবটাই পরিচালিত হয়েছে এই দুই শীর্ষ নেতার অঙ্গুলিহেলনে। এছাড়া যোগী আদিত্যনাথ-সহ আট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং একঝাঁক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে বাংলায় নামিয়েছিল বিজেপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো একটি রাজ্য দখলে বিজেপি এত শক্তি এর আগে কখনও প্রয়োগ করেনি।

কৃতিত্ব বনাম দায়ভার: শুরু চর্চা

বিজেপির অন্দরে কান পাতলে এখন একটাই গুঞ্জন— জিতলে কৃতিত্বের সিংহাসন কার?

  • সাফল্য এলে: বিজেপি যদি ক্ষমতায় আসে, তবে ‘মোদি ম্যাজিক’ এবং অমিত শাহর ‘নিখুঁত চাণক্য নীতি’কেই কৃতিত্ব দেওয়া হবে। দলের মুখ হিসেবে মোদি এবং সেনাপতি হিসেবে শাহ— দুজনেই সাফল্যের ভাগীদার হবেন।

  • বিপর্যয় ঘটলে: প্রশ্ন উঠছে, যদি ফল ২০২১-এর মতো হয়? এত হাঁকডাক, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপ এবং দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বের ঘাম ঝরানো প্রচারের পরেও যদি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় বিজেপি, তবে তার দায় কার ওপর বর্তাবে?

গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কাঁটা

ইতিমধ্যেই দলের একাংশের মধ্যে ফিসফাস শুরু হয়েছে। নিচুতলার অনেক নেতা-কর্মীর মতে, সমস্ত সিদ্ধান্ত দিল্লি থেকে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই হারের পরিস্থিতি তৈরি হলে সেই দায়ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকেই নিতে হবে। অন্যদিকে, রাজ্য নেতৃত্বের একটি অংশ মনে করছে, হারলে হয়তো দায় ঠেলে দেওয়া হবে স্থানীয় সংগঠনের ব্যর্থতার ওপর। এই ‘ক্রেডিট ওয়ার’ বা কৃতিত্বের লড়াইকে কেন্দ্র করে ভোটের ফল প্রকাশের আগেই বঙ্গ বিজেপির অন্দরে চাপা উত্তেজনা এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের চোরাস্রোত বইতে শুরু করেছে। আগামী ৪ মে জানা যাবে বাংলার মানুষ কাকে বেছে নিলেন। কিন্তু তার আগেই বিজেপির অন্দরে শুরু হওয়া এই ‘দায়ী কে’ বিতর্ক শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *