বাংলার রাজনীতিতে যুগের অবসান, প্রয়াত আবু হাসেম খান চৌধুরী
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- প্রয়াত হলেন প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ তথা প্রবীণ নেতা আবু হাসেম খান চৌধুরী। গতকাল বুধবার ৮ই এপ্রিল রাত নটা ৩০ মিনিট নাগাদ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন । মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ । পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্য জনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ । তার প্রাণের সুখের ছায়া নেমে এসেছে মালদা তথা বাংলার রাজনৈতিক মহলে ।
আবু হাসেম খান চৌধুরী বঙ্গ তথা দেশের রাজনীতিতে ডালুবাবু নামে বেশি পরিচিত ছিলেন। তিনি ছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গনি খান চৌধুরীর ভাই । দাদার রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন পরিচিত ছিলেন । তার দাদা গনি খান চৌধুরী প্রয়াত হয়েছিলেন ২০০৬ সালের ১৪ই এপ্রিল বিধানসভা নির্বাচনের আগে । দাদার মতো ভাই ডালুর প্রয়াণ হল ভোটের আগে । দাদার মৃত্যুর পর সংসদীয় রাজনীতিতে অভিষেক হয় তার । ২০০৯, ২০১৪ এবং ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে মালদাহ দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে তিনি পরপর তিনবার জয়ী হয়ে সাংসদ হন । ২০১২ থেকে ১৪ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের আমলে তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন । আবু হাসেমখান চৌধুরীর পরিবার কংগ্রেসের ঘরানার। তার আরেক দাদা আবু নাসের খান চৌধুরী ২০১১ সালে কংগ্রেস তৃণমূল জোট সরকারের মন্ত্রী হয়েছিল । প্রয়াত দিদি, রুবি নুর ছিলেন দীর্ঘদিনের কংগ্রেস বিধায়ক । রুবির কন্যা মৌসুম ব্যানার্জির নূর সুজাপুরের কংগ্রেস বিধায়ক এবং মালদা উত্তরের কংগ্রেস সাংসদ ছিলেন ২০১৯ সালে তৃণমূলে যোগ দিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ হলেও ২০২৬ বিধানসভার আগে তিনি তার পুরানো দল কংগ্রেসে ফিরে মালতীপুর আসন থেকে কংগ্রেসের টিকিটে প্রার্থী হয়েছেন।
তার প্রয়াণে শোকোস্তব্ধ অধীর চৌধুরী । বহরমপুরের প্রার্থী সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক প্রকাশ করে লিখেছেন ” প্রিয় ডালুদার প্রয়াণ আমার কাছে এক চরম আঘাত। আমার হৃদয়ের খুব কাছের একজনকে হারালাম । শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা জানাই ” । অধীর চৌধুরী ছাড়াও ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক প্রকাশ করেছেন।
