বহরমপুরে অধীরের প্রচারে রণক্ষেত্র
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,বহরমপুর: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদের বহরমপুর। শনিবার সকালে কংগ্রেস প্রার্থী অধীর রঞ্জন চৌধুরীর প্রচারকে কেন্দ্র করে ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে তৈরি হলো রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি। তৃণমূল ও কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি, পালটা স্লোগান এবং পুলিশের হস্তক্ষেপ— সব মিলিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা।
শনিবার সকালে অধীর চৌধুরী তাঁর অনুগামীদের নিয়ে বহরমপুরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটপ্রচারে বের হন। কংগ্রেসের অভিযোগ, প্রচার শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর ভীষ্মদেব কর্মকারের নেতৃত্বে একদল যুবক জমায়েত করে অধীর চৌধুরীকে লক্ষ্য করে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। পাল্টা স্লোগান দেন কংগ্রেস কর্মীরাও। মুহূর্তের মধ্যে বচসা হাতাহাতির রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। অবশেষে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে অধীরবাবুকে এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ কংগ্রেস প্রার্থী তৃণমূল সমর্থকদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন,“ওরা ভয় পাচ্ছে তাই প্রচারে বাধা দিচ্ছে। আমি মানুষের কাছে এসেছি। যদি কেউ গায়ের জোর দেখাতে আসে, তবে জেনে রাখুক— মারলে পিষে দেব।”
অন্যদিকে, তৃণমূল কাউন্সিলর ভীষ্মদেব কর্মকার কংগ্রেসের আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, অধীর চৌধুরী বহিরাগতদের নিয়ে এসে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করছেন। প্রার্থীর সঙ্গে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনী সাধারণ মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে। এলাকার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিয়েছেন, তৃণমূলের কেউ এতে জড়িত নয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ইউসুফ পাঠানের কাছে হারের পর অধীর চৌধুরীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে হারানো জমি ফিরে পেতে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে আবারও নিজের খাসতালুক বহরমপুর থেকেই লড়ছেন তিনি। ১৯৯৬ সালের পর অর্থাৎ দীর্ঘ তিন দশক বাদে আবারও বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী হয়েছেন এই বর্ষীয়ান নেতা। গত বৃহস্পতিবারই তিনি বড় মিছিল করে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। শনিবারের এই ঘটনা প্রমাণ করে দিল, বহরমপুরের মাটি পুনর্দখল করতে অধীর যেমন মরিয়া, তেমনি তাঁকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তেও নারাজ শাসক দল। এখন দেখার, মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারে শেষ পর্যন্ত সফল হন কিনা এই লড়াকু নেতা।
