আজকের দিনেতিলোত্তমা

Net এ নজির, বাংলায় দেশের সেরা যাদবপুরের ছাত্রী

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- উচ্চশিক্ষা অর্জনের পথে এক অসাধারণ অধ্যবসায় ও দৃঢ় সংকল্পের ফলস্বরূপ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ক্ষেত্রে এবার এক বিশিষ্ট মেধাবী ছাত্রী ইউজিসি উইজিসি নেট পরীক্ষায় সব ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সর্বোচ্চ র‍্যাঙ্ক (অল ইন্ডিয়া Rank এক) অর্জন করেছেন। এই অনন্য সাফল্যটি এসেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী লোপামুদ্রা জানা-র হাত ধরে। এই প্রাপ্তি স্বভাবতই বাংলা ভাষার শিক্ষার্থী এবং গবেষণার আগ্রহী সকলের জন্য গর্বের মুহূর্ত তৈরি করেছে।

লোপামুদ্রা জানা এই পরীক্ষায় ৩০০ নম্বরের মধ্যে ২৩২ নম্বর সংগ্রহ করে ভারতের মধ্যে বাংলা বিষয়ে সবার উপরে র‍্যাঙ্ক ১ অর্জন করেছেন যা বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য এক বিরল ও অনন্য সাফল্য।

তিনি এই পরীক্ষায় তৃতীয়বারের মতো অংশগ্রহণ করেছিলেন, এবং আগের দু’বার ব্যর্থ হওয়ার পরও হাল ছাড়েননি। বরং প্রতিটি ব্যর্থতা থেকেই শিক্ষালাভ করে অধ্যয়ন ও প্রস্তুতিকে আরও দৃঢ় করেছিলেন। আর তারপর অবশেষে এই বিজয় অর্জন করেছেন। নিজের সংগ্রামের গল্প ব্যাখ্যা করতে লোপামুদ্রা জানিয়েছেন যে, “কোনো প্রচেষ্টাই বৃথা যায় না; নিয়মিত অধ্যবসায়ই সফলতার মূল চাবিকাঠি।”

শিক্ষাজীবন থেকেই তিনি মেধার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে বাংলা বিভাগে স্নাতক হয়েছিলেন এবং গোল্ড মেডেল অর্জন করেছিলেন। সেখানে ২০২২ সালে বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। এরপর তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশোনা চালিয়ে যান, এবং তাতেই নেট পরীক্ষায় তাঁর পরিশ্রম ও অধ্যবসায় প্রাণবন্ত ফল দিয়েছে।

লোপামুদ্রা শুধু এক কথায় মেধাবীই নন; তিনি গানেও দক্ষ, এবং ভবিষ্যতে তিনি রবীন্দ্রসাহিত্যের ওপর গভীর গবেষণা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই অনন্য কৃতিত্বে তিনি নিজের পরিবার বিশেষত তাঁর মা সঞ্চিতা তরফদার জানা (স্কুল শিক্ষিকা ও গবেষক) এবং তাঁর বাবা কমলকান্তি জানা (ফাইন আর্টসের শিল্পী)-র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের সমর্থন ও উৎসাহই তাঁর এই সাফল্যের অন্যতম বড় হাতিয়ার বলে তিনি মনে করেন।

বাংলা ভাষায় এই রকম একটি সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বাংলাভাষী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে সামগ্রিক অগ্রগতির প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হবে। লোপামুদ্রার এই সাফল্য বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে আরও শক্ত করে তুলবে এবং অনুপ্রেরণা জোগাবে বহু আগ্রহী ছাত্রছাত্রীকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *