মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ইমপিচমেন্ট ? দিল্লিতে বড় হুঁশিয়ারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে এসআইআর শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন সময়ে নানা মন্তব্য করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এফ আই আর নিয়ে সাধারণ মানুষের হয়জানের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন সময়ে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন তাকে । দিল্লিতে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। দিল্লির বঙ্গভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন তারা চান জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্ট হোক ।
কংগ্রেস তবার লোকসভার বিরোধী দলনেতার রাহুল গান্ধী বারংবার অভিযোগ তুলেছিলেন বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনের অন্যান্য আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে রেট্রোস্প্রেকটিভ আইন আনা হবে । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংবাদিক বৈঠকের সময় সাংবাদিকরা তার কাছে জানতে চান আপনি কি রাহুল গান্ধীর বক্তব্যকে সমর্থন করেন ? মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইন আনা যেতে পারে ?
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন “কোনও কিছু যদি জেনুইন হয় প্র্যাকটিক্যাল হয় এবং জনতার ভালোর জন্য হয় । আমরাও চাইবো তার ইমপিচমেন্ট হোক। আমাদের প্রয়োজনীয় সংখ্যা নেই কিন্তু ইমপিচমেন্ট তো হতেই পারে নিয়ম তো রয়েছে। রেকর্ড হয়ে যাবে। রাহুল গান্ধী যদি এমন করেন তা আমরা আমাদের সাংসদদের সঙ্গে আলোচনা করে জনগণের স্বার্থে এককাট্টা হয়ে কাজ করব এতে আমাদের কোন আপত্তি নেই ” ।
গতকাল ২রা ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরে জ্ঞানেশ কুমার ও নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সাথে তিনি বৈঠক করেন । এস আই আর এর কাজ করতে গিয়ে মৃত বিএলওদের পরিবারের সদস্য ও এস আই আর খসড়া তালিকায় বাদ পড়া একাংশ কে নিয়ে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। বৈঠকের পর রাগান্বিত মেজাজের সাথে বেরিয়ে আসতে দেখা যায় তাকে । জ্ঞানেশ কুমার কে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন ” উনি এমন আচরণ করছেন যে উনি নিজের জমিদার আর আমরা চাকর । আমাদের অপমান এবং অসম্মান করা হয়েছে তাই বৈঠক আমরা বয়কট করে বেরিয়ে এসেছি। ” আর সেই বৈঠকের ২৪ ঘন্টা শেষ হওয়ার আগেই ইমপিচমেন্ট নিয়ে বড় ইঙ্গিত দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা । প্রসঙ্গত দিল্লির নির্বাচন কমিশনের অফিসের সাক্ষাতের দিন দিল্লির বঙ্গভবনের বাইরে পুলিশের সক্রিয়তার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী । ভোররাতে বাংলা থেকে দুটি পুলিশের প্রতিনিধি দলও সেখানে যায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা দিল্লি সফর ঘিরে রাজধানীতে রাজনীতির পারদ চড়ছে এ কথা সহজেই বলা যায়।
