বাজেটে কলকাতা মেট্রোতে বরাদ্দে কাটছাঁট
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে কলকাতার লাইফলাইন মেট্রো রেলের জন্য বরাদ্দ ঘিরে মিশ্র চিত্রই সামনে এল। একদিকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সম্প্রসারণ প্রকল্পে বরাদ্দ কমানো হয়েছে, অন্যদিকে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো বা গ্রিন লাইনের ক্ষেত্রে কিছুটা বাড়তি স্বস্তি দিয়েছে কেন্দ্র।
বর্তমানে জোকা থেকে মাঝেরহাট পর্যন্ত পার্পল লাইনে মেট্রো পরিষেবা চালু রয়েছে। এই লাইনের মূল প্রকল্প জোকা থেকে এসপ্ল্যানেড হয়ে ইডেন গার্ডেন্স পর্যন্ত বিস্তার। মাঝেরহাট থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত অংশে মাটির নিচে এবং মাটির উপরে জোরকদমে নির্মাণকাজ চলছে। ইতিমধ্যেই টানেল বোরিং মেশিন মাটির নিচে প্রবেশ করানো হয়েছে। রবিবার পেশ হওয়া কেন্দ্রীয় বাজেটে পার্পল লাইনের জন্য ৯০৬.৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। যদিও গত অর্থবর্ষে এই লাইনের জন্য বরাদ্দ ছিল ৯১৪ কোটি টাকা, অর্থাৎ এবছর সামান্য কাটছাঁট হয়েছে।
অন্যদিকে অরেঞ্জ লাইনে বর্তমানে কবি সুভাষ (নিউ গড়িয়া) থেকে বেলেঘাটা পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা চালু রয়েছে। এই লাইনের মূল প্রকল্প নিউ গড়িয়া থেকে কলকাতা বিমানবন্দর বা জয়হিন্দ মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত। তবে বাস্তবে একাধিক সমস্যায় জর্জরিত এই প্রকল্প। কলকাতা পুলিশের টালবাহানায় চিংড়িঘাটায় কাজ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি সেক্টর ফাইভের পর একাধিক জায়গায় জমি জটিলতার কারণে নির্মাণকাজের গতি অত্যন্ত ধীর। চলতি বাজেটে অরেঞ্জ লাইনের জন্য ৭০৫.৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত বাজেটে এই লাইনের বরাদ্দ ছিল ৭২০.৭২ কোটি টাকা। ফলে এই প্রকল্পেও বরাদ্দ কমেছে।
গ্রিন লাইনের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে ভালো খবর মিলেছে। হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো পরিষেবা বর্তমানে চালু রয়েছে। এবারের বাজেটে এই লাইনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৫২৯ কোটি টাকা। গত অর্থবর্ষে যেখানে বরাদ্দ ছিল ৫০০ কোটি টাকা, সেখানে এবছর ২৯ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। মেট্রো কর্তৃপক্ষের আশা, এই অতিরিক্ত অর্থ অসমাপ্ত কাজ দ্রুত শেষ করতে সাহায্য করবে।
ইয়েলো লাইনের ক্ষেত্রে ছবিটা কিছুটা অস্পষ্ট। বর্তমানে নোয়াপাড়া থেকে কলকাতা বিমানবন্দর বা জয়হিন্দ মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত পরিষেবা চালু রয়েছে। এই লাইনের মূল প্রকল্প বিমানবন্দর থেকে বারাসত পর্যন্ত বিস্তার। তবে জমি জটিলতার কারণে বিমানবন্দরের পর একাধিক অংশে কাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে। ইয়েলো লাইনের জন্য আলাদা করে কোনো নির্দিষ্ট অঙ্কের বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়নি। তবে মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশনের জন্য বরাদ্দ হওয়া মোট ২৮৮৫ কোটি টাকার একটি অংশ এই লাইনের কাজেই ব্যবহার করা হবে বলে জানা গেছে।
এদিকে, দক্ষিণেশ্বর থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম পর্যন্ত পুরনো মেট্রো রুট বা ব্লু লাইনের জন্য এবারের কেন্দ্রীয় বাজেটে কোনো নতুন বরাদ্দ রাখা হয়নি। মেট্রো সূত্রে জানানো হয়েছে, এই লাইনের কোনো নতুন নির্মাণকাজ বাকি না থাকায় মূলধনী বরাদ্দের প্রয়োজন নেই। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের খরচ মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব তহবিল থেকেই বহন করবে।
সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, বিমানবন্দর–নিউ গড়িয়া অরেঞ্জ লাইন এবং জোকা–মাঝেরহাট পার্পল লাইনের বরাদ্দ কমানো হলেও ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো বা গ্রিন লাইনের বরাদ্দ বাড়িয়ে কিছুটা ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করেছে রেল মন্ত্রক। তবে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলিতে বরাদ্দ কমার প্রভাব ভবিষ্যতে নির্মাণকাজের গতিতে পড়বে কিনা, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
