আজকের দিনেবাংলার আয়না

দুর্নীতি মামলায় আদালতে পেশ প্রাক্তন পুরপ্রধান স্বপন নন্দী

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, আরামবাগ:- গ্রিন সিটি প্রকল্পের সাত কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগে গতকাল কেরল থেকে আরামবাগ পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান স্বপন নন্দীকে গ্রেপ্তার করে স্থানীয় পুলিশ। দূর্নীতি দমন আইনে গ্রেফতার করা হয় স্বপন নন্দী কে। সেই  মামলায় আজ তাকে হুগলি জেলা আদালতে পেশ করা হয়। আরামবাগের বর্তমান তৃণমূল চেয়ারম্যান সমীর ভান্ডারী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তার পর থেকেই ফেরার ছিলেন তিনি। পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে, গোঁফ কেটে ছদ্মবেশ ধরে কেরলমে র তিরুবনন্তপুরম পালিয়ে যান প্রাক্তন পুরপ্রধান। সেখান থেকে গতকাল তাকে গ্রেফতার করে রাতেই ট্রানজিট রিমান্ডে আরামবাগে নিয়ে আসা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হুগলি গ্রামীন পুলিশের এস ও জি দল গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কেরল মে পৌঁছায়। এরপর গতকাল তাকে দমদম বিমানবন্দরে নামিয়ে সেখান থেকে আরামবাগে নিয়ে আসে। আরামবাগ থানায় ঢোকানোর সময় তার উপরে ডিম বৃষ্টি শুরু হয়।কালি ছিটিয়ে দেওয়া হয় শরীরে।জামা ছিঁড়ে দেওয়া হয়। মারা হয় কিল ঘুষিও।

এদিন একটি সাদা স্করপিও গাড়িতে কড়া নিরাপত্তায় পুলিশ, চুঁচুড়ার হুগলি জেলা আদালতে নিয়ে আসে স্বপন নন্দীকে। প্রাক্তন পুরপ্রধানের মুখ ছিল মাস্কে ঢাকা । আদালতে ঢোকার সময় তৃণমূল নেতা দাবি করেন মিথ্যা অভিযোগ হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে আরামবাগ পুরসভার গ্রিন সিটি প্রকল্পে সোলার বিদ্যুৎ প্যানেল বসানোর জন্য ই-টেন্ডার ডাকা হয়। পুর এলাকার ৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিশুশিক্ষা কেন্দ্র এবং ১১টি আপার প্রাইমারি ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাদে সোলার প্যানেল বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৬৪.৪৬ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন। সেই বিদ্যুৎ বিদ্যালয়গুলির পাশাপাশি পুরসভার স্ট্রিট লাইটে ব্যবহারের কথা ছিল। অভিযোগ, সেই প্রকল্পেই কোটি কোটি টাকা নয়-ছয় হয়েছে।

পুরপ্রধানের পদ থেকে সরলেও স্বপন নন্দী ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ছিলেন। তৃণমূলের পুরনো রাজ্য কমিটির রাজ্য সম্পাদকও ছিলেন তিনি। কিন্তু ভোটের ফল প্রকাশের পরই তিনি আরামবাগ ছেড়ে গা ঢাকা দেন। এরপর পুরনো মামলার তদন্তে নামে পুলিশ। ইতিমধ্যেই এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন পুরসভার অস্থায়ী ইঞ্জিনিয়ার মানস কুণ্ডু, অস্থায়ী ইলেকট্রিক সুপারভাইজার কৌস্তুভ মুখোপাধ্যায় ও এক ঠিকাদার।

তদন্তকারীরা আগেই জানিয়েছিলেন, প্রাক্তন পুরপ্রধানকে হেফাজতে নিয়ে ধৃত বাকি তিনজনের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হবে। সেই আশাতেই আজ আদালতের রায়ের ওপর নজর এলাকার বাসিন্দাদের ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *