প্রযুক্তিতেও থামছে না বিতর্ক — বিশ্বকাপে সেমি-অটোমেটেড অফসাইড নিয়েও প্রশ্ন
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- যেমনটা আশা করা হয়েছিল, প্রযুক্তি সব বিতর্ক মেটাতে পারছে না। চলতি বিশ্বকাপে কানেক্টেড বল ও সেমি-অটোমেটেড অফসাইড টেকনোলজি এনেও রেফারিং নিয়ে বিতর্ক থামেনি। উল্টে নতুন প্রশ্ন উঠছে — প্রযুক্তি কি আদৌ ফুটবলের স্পিরিট বাঁচাতে পারছে?
এবারের বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফিফা ঘোষণা করেছিল, কানেক্টেড বল টেকনোলজি এবং সেমি-অটোমেটেড অফসাইড সিস্টেম ব্যবহার হবে। বলের ভেতরে থাকা সেন্সর প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার ডেটা পাঠাবে। স্টেডিয়ামের ছাদে লাগানো ১২টি ক্যামেরা প্রতি খেলোয়াড়ের ২৯টি পয়েন্ট ট্র্যাক করবে। লক্ষ্য ছিল— নিখুঁত অফসাইড ধরা ও বিতর্ক কমানো।
কিন্তু বাস্তব চিত্র আলাদা। সুইজারল্যান্ড-কাতার ম্যাচে সুইজারল্যান্ড পেনাল্টি পায়। টিভি রিপ্লেতে অনেকেরই মনে হয়, সেটি অফসাইড ছিল। নিয়ম অনুযায়ী থ্রিডি অ্যানিমেশন দেখিয়ে সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করার কথা। কিন্তু প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে সেটি সম্প্রচার করা যায়নি। বিতর্ক রয়ে গেছে।
এরপরই ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ফুটবলার গ্যারি নেভিল সরব হন। তাঁর প্রশ্ন, “প্রযুক্তির প্রমাণই যদি দর্শককে দেখানো না যায়, তাহলে তারা কিসের ওপর বিশ্বাস রাখবে?”
আরেকটি বড় প্রশ্ন উঠেছে সিস্টেমের গঠন নিয়ে। বলের চিপ প্রতি মুহূর্তে শত শত তথ্য দিলেও, অফসাইডের মূল বিশ্লেষণ করে ক্যামেরা। শেষ পর্যন্ত ভারের সাহায্যে সিদ্ধান্ত নেন রেফারি। ফলে মানবিক ভুলের জায়গা থেকেই যাচ্ছে।
পাশাপাশি, কিছু ম্যাচে মিলিমিটারের ব্যবধানে অফসাইড দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত সঠিক হলেও বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, এতে ফুটবলের স্বাভাবিক গতি ও আক্রমণের স্পিরিট নষ্ট হচ্ছে। ‘আর্মপিট অফসাইড’-এর মতো সিদ্ধান্তে ফুটবলারদের হতাশা বাড়ছে।
প্রযুক্তি এসেছে স্বচ্ছতা আনতে, বিতর্ক কমাতে। কিন্তু চলতি বিশ্বকাপ দেখাচ্ছে, প্রযুক্তি নিজেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। ডেটা, ক্যামেরা আর মানবিক সিদ্ধান্তের মিশেলে এখনও ‘নিখুঁত রেফারিং’ অধরাই। ফিফার সামনে এখন চ্যালেঞ্জ — প্রযুক্তিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করা, নাকি ফুটবলের স্পিরিট বাঁচাতে নিয়মে বদল আনা। আপাতত মাঠের বাইরেও চলছে টেকনোলজি বনাম ফুটবল আবেগের লড়াই।
