“বাংলার বাড়ি” তে ঐতিহাসিক সাফল্য
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবাসন প্রকল্প ‘বাংলার বাড়ি’ রাজ্যে গরিব ও প্রান্তিক মানুষের বাসস্থানের স্বপ্ন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক নজির গড়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই প্রকল্পের আওতায় চিহ্নিত উপভোক্তাদের মধ্যে প্রায় ৯৭ শতাংশের পাকা ঘর নির্মাণ ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়েছে। মাত্র আট মাসের মধ্যেই রাজ্যজুড়ে প্রায় ১১ লক্ষ ৬০ হাজারের বেশি পরিবারের মাথার উপর স্থায়ী ছাদ তুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে, যা সাধারণত এক থেকে দেড় বছরেরও বেশি সময় লাগে।
কেন্দ্রীয় আবাসন প্রকল্প থেকে পর্যাপ্ত অর্থ না পাওয়ার প্রেক্ষাপটে রাজ্য সরকার নিজস্ব তহবিল ব্যবহার করে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্প চালু করে। এই প্রকল্পে প্রতিটি উপভোক্তাকে ঘর তৈরির জন্য দু’দফায় মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়, যাতে কোনও মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ না থাকে। প্রথম কিস্তির অর্থ পেয়ে উপভোক্তারা ঘর তৈরির কাজ শুরু করেন এবং নির্ধারিত পর্যায়ে পৌঁছনোর পর দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হয়। দ্রুত অর্থ ছাড়ের পাশাপাশি পঞ্চায়েত ও প্রশাসনের নিয়মিত তদারকির ফলে নির্মাণের গুণগত মান বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। গ্রামবাংলার বহু দরিদ্র, ভূমিহীন ও কাঁচা ঘরে বসবাসকারী পরিবার প্রথমবারের মতো পাকা বাড়িতে ওঠার সুযোগ পেয়েছে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, বাকি অল্প সংখ্যক ঘরের কাজও দ্রুত শেষ করার প্রস্তুতি চলছে এবং পরবর্তী পর্যায়ে আরও নতুন উপভোক্তাকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সামগ্রিকভাবে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা, মানবিক উন্নয়ন ও গরিব মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠেছে।
