FIFA-Football : পরের বিশ্বকাপে খেলবে না চ্যাম্পিয়ন স্পেন? ফিফার ‘লোভী’ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বয়কটের পথে ইউরোপ !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, স্পোর্টস ডেস্ক:- বিশ্বকাপ শেষ না হতেই বিশ্ব ফুটবলে ধুন্ধুমার। ফিফার বিরুদ্ধে বয়কটের হুমকি দিল উয়েফা। অভিযোগ, বিশ্বকাপকে বেসরকারি বিনিয়োগের পণ্য বানাতে চাইছে ফিফা। এর জেরে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইংল্যান্ডের মতো ইউরোপের শক্তিধর দেশগুলো আদৌ খেলবে কিনা তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় সংশয়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীও সরব হয়েছেন ফিফার এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের দাবি, আগামী বিশ্বকাপের আগে সদস্য দেশগুলোর অনুমোদন নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়নের নামে বেসরকারি সংস্থার থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার তোলার পরিকল্পনা করেছে ফিফা। বিশ্বকাপ পরিচালনার জন্য ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি কোম্পানি গঠন করে তার ১০ বিলিয়ন ডলারের অংশীদারিত্ব বিক্রি করা হবে বিনিয়োগকারীদের কাছে। ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর যুক্তি, এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ফুটবলের উন্নতি হবে।
কিন্তু এই পরিকল্পনা একেবারেই মানতে নারাজ উয়েফা। তাদের মতে, “এই সিদ্ধান্ত সব সীমা অতিক্রম করেছে। যারা ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত, যারা এই খেলাটার নিয়ন্ত্রক, সেই সব প্রতিষ্ঠানের এগুলো কখনওই করা উচিত নয়। আমরা কেউই ফুটবলের মালিক নই। বিশ্বকাপ ফিফার বিক্রি করার সম্পদ নয়।”
পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে চলতি সপ্তাহেই উয়েফা ৫টি সদস্য দেশের জরুরি বৈঠক ডাকছে। সেখানে ভবিষ্যৎ বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। বয়কট হলে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনের পাশাপাশি ফ্রান্স, জার্মানি, পর্তুগাল, ইংল্যান্ডের মতো দলগুলোও ২০৩০ বিশ্বকাপে থাকবে না।
এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামও। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, “ফুটবল কোনও বিনিয়োগকারীর সম্পদ নয়। যাঁরা ঝড়ে-বৃষ্টিতে স্টেডিয়াম ভরিয়ে তোলেন, যাঁরা মাঠে থাকেন, তাঁদের জন্য। বিশ্বকাপ বিক্রির বস্তু নয়। যখনই তুমি এর দাম ঠিক করে দেবে, তখনই তুমি বিক্রি করতে চাইছ। ফুটবল চিরকাল সমর্থকদের ছিল, আছে, থাকবে।”
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে দু’বছর অন্তর বিশ্বকাপ আয়োজনের পরিকল্পনা করেছিল ফিফা। তখনও উয়েফার বয়কটের হুমকির মুখে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হয়েছিল।
ফিফা বনাম উয়েফা দ্বন্দ্ব এখন চরমে। বাণিজ্য নাকি ঐতিহ্য – কোন পথে হাঁটবে বিশ্ব ফুটবল সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। উয়েফার বৈঠকের পর কী সিদ্ধান্ত আসে এবং স্পেন-সহ ইউরোপীয় দৈত্যরা আদৌ পরের বিশ্বকাপে পা রাখে কিনা, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা ফুটবল বিশ্ব।
