ইরান যুদ্ধের প্রভাব: অর্থনীতি সামলাতে মন্ত্রীদের ‘রিফর্ম এক্সপ্রেস’ চালুর নির্দেশ মোদীর
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে দেশে জ্বালানি সঙ্কট ও টাকার পতনের আশঙ্কার মধ্যে মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিদেশ সফর সেরে ফিরেই বৃহস্পতিবার সব পূর্ণমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে সেবাতীর্থে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা বৈঠক করেন তিনি। আর্থিক সংস্কারে গতি আনতে ‘রিফর্ম এক্সপ্রেস’ চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন— সমস্ত বকেয়া কাজ দ্রুত সেরে ফেলতে হবে। অযথা বিতর্কে না জড়িয়ে সুশাসন ও পরিষেবার দিকে নজর দিতে হবে। ফাইল আটকে রাখা যাবে না। কাজের প্রক্রিয়া সরল করে কম সময়ে বেশি কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ফলে এলপিজি ও অন্যান্য গ্যাস আমদানিতে সমস্যা তৈরি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী জৈব গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছেন। এর আগে দেশবাসীকেও জ্বালানি ব্যবহারে লাগাম টানার পরামর্শ দিয়েছিলেন মোদী।
গত সপ্তাহে পাঁচ দেশ সফর শেষে ফিরেই এই বৈঠক ডাকেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারি সূত্রের দাবি, প্রতিটি মন্ত্রক কী ভাবে আর্থিক সংস্কারের পথে হাঁটবে তার রিপোর্ট তৈরি করতে বলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির দাম বাড়লে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও বাড়বে। মূল্যবৃদ্ধি রুখতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সুদের হার বাড়াতে পারে। এতে শিল্পের জন্য ঋণের খরচ বাড়বে এবং আর্থিক বৃদ্ধি ধাক্কা খাবে। সেই পরিস্থিতি সামলাতেই সংস্কারে গতি আনার কথা বলেছেন মোদী। আগামী সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রী পদে নরেন্দ্র মোদীর ১২ বছর পূর্ণ হবে। বৈঠকে তিনি মন্ত্রীদের মনে করিয়ে দেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়া নিছক স্লোগান নয়, এটা প্রতিশ্রুতি। সেই লক্ষ্যে কাজে গতি আনতে হবে।
ইরান যুদ্ধের আবহে দেশের অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা কাটাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের কাজে আরও তৎপর হওয়ার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী। ‘রিফর্ম এক্সপ্রেস’-এর মাধ্যমে সংস্কার, জৈব গ্যাসে জোর এবং বকেয়া ফাইল দ্রুত ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, সংকট মোকাবিলায় সরকার এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে।
