রথযাত্রার ভোরে জাতীয় সড়কে রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা! লরির ধাক্কায় পিষ্ট ৪ বাসকর্মী
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, পূর্ব মেদিনীপুর:- রথযাত্রার পুণ্যলগ্নেই শোকের ছায়া পূর্ব মেদিনীপুরে। দিঘা-নন্দকুমার জাতীয় সড়কের হেঁড়িয়া এলাকায় এক ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন বাসের মালিক, চালক এবং দুই খালাসি (হেলপার)। মেকানিকাল ত্রুটির কারণে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি দূরপাল্লার বেসরকারি বাসের পিছনে দ্রুতগতির একটি লরি সজোরে ধাক্কা মারলে এই বিপর্যয় ঘটে। দুর্ঘটনায় আরও ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় তমলুক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
যান্ত্রিক গোলযোগ সারাতে গিয়েই বিপত্তি
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি বাসটি হাওড়া থেকে পর্যটকদের নিয়ে দিঘার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। বৃহস্পতিবার ভোররাতে জাতীয় সড়কের হেঁড়িয়া এলাকায় পৌঁছানোর পর বাসটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এরপর চালক বাসটিকে রাস্তার ধারে দাঁড় করিয়ে মেরামতির কাজ শুরু করেন। বাসের মালিক, চালক ও দুই হেলপারসহ কয়েকজন মিলে গাড়ির পিছনের অংশ খুলে গোলযোগের কারণ খতিয়ে দেখছিলেন।
ঠিক সেই সময়েই পিছন দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির লরি আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বাসের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে। লরির গতি এতটাই বেশি ছিল যে বাসের পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা চারজন চাকার তলায় পিষ্ট হয়ে যান।
মৃত ও আহতদের বিবরণ
ভোররাতের এই বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন এবং খেজুরি থানার পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত অবস্থায় সবাইকে উদ্ধার করে তমলুক জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা চারজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মৃতব্যক্তিরা হলেন,বাসের মালিক, তপন দাস (৪৪) বাড়ি বাজকুল। অপর চালক শিবব্রত পট্টনায়েক (৫৯), বাড়ি দিঘা। বাসের হেলপার, অশোক মাইতি, বাড়ি ভূপতিনগর। অপর হেলপার, শুভদীপ মণ্ডল, বাড়ি বাজকুল। হাসপাতাল সূত্রে খবর, চিকিৎসাধীন বাকি তিনজনের অবস্থাও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
ঘাতক লরি আটক, তদন্তে পুলিশ
দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক লরিটিকে আটক করেছে খেজুরি থানার পুলিশ। চালক ঘুমিয়ে পড়েছিলেন নাকি লরিটিতে কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জাতীয় সড়কের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করার পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান রেকর্ড করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
