মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন আরও তীব্র, মার্কিন হামলার পাল্টা জবাব দিল ইরান
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, আর্ন্তাজাতিক ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বিপজ্জনক মোড় নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন বাহিনীর টানা কয়েক ঘণ্টার সামরিক অভিযানের পর এবার পাল্টা হামলার দাবি করেছে ইরান। ফলে গোটা অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে শুরু হওয়া অভিযানে প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর আশপাশে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নৌবাহিনীর অস্ত্রভাণ্ডারকে লক্ষ্য করা হয়। সেন্টকমের দাবি, এই অভিযানে ইরানের সামরিক সক্ষমতার উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে।
এই অভিযানের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আরও কঠোর বার্তা দেন। তিনি বলেন, তেহরান যদি কোনও নতুন চুক্তিতে সম্মত না হয়, তাহলে আগামী দিনে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সেতুর মতো অবকাঠামোকেও হামলার লক্ষ্য করা হতে পারে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
অন্যদিকে, ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা মার্কিন চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। তেহরানের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে তাদের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ আগের মতোই বজায় থাকবে এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় তারা প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন হামলায় ২৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
এরই মধ্যে পাল্টা সামরিক অভিযানের দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড। তাদের বক্তব্য, বাহরিন, কুয়েত, কাতার এবং জর্ডনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি বাহরিনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি এবং জর্ডনের আজরাক বিমানঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা। যদিও এই দাবির বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
এই পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা আরও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের আশঙ্কা, সংঘাত যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আসে তাহলে তা শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং অর্থনীতির ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এখন বিশ্বজুড়ে নজর রয়েছে, পরিস্থিতি কি আলোচনার পথে এগোবে, নাকি আরও বড় সামরিক সংঘর্ষের দিকে গড়াবে।
