আজকের দিনেবাংলার আয়না

আলোর সাজে সেজে উঠেছে সমুদ্র শহর, ভক্তদের অপেক্ষায় জগন্নাথের মহাযাত্রা

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, দীঘাঃ  সমুদ্রের ঢেউ, নোনতা হাওয়া আর ভক্তির আবহ এই তিনের অপূর্ব মিলনে আবারও এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে দিঘা। আগামী ১৬ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার, শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দিরে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত রথযাত্রা। এই উৎসবকে ঘিরে ইতিমধ্যেই উৎসবের রঙে রাঙিয়ে তোলা হয়েছে গোটা শহর। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে দিঘার বিভিন্ন রাস্তা, মন্দির চত্বর এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলি সাজানো হয়েছে চন্দননগরের বিখ্যাত আলোকসজ্জায়। সন্ধ্যা নামতেই রঙিন আলোর ঝলকে যেন অন্য এক রূপে ধরা দিচ্ছে সমুদ্র শহরে।

মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকাল সাড়ে দশটায় ঐতিহ্যবাহী পাহাণ্ডি-বিজয়ের মাধ্যমে শ্রীজগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রা দেবীকে মন্দির থেকে রথে আনা হবে। এরপর দুপুর একটা থেকে আড়াইটে পর্যন্ত রথ সাজানো, ভোগ নিবেদন এবং অন্যান্য ধর্মীয় আচার সম্পন্ন হবে। বিকেল তিনটের সময় প্রধান অতিথি হিসেবে শিশির অধিকারী আনুষ্ঠানিকভাবে রথযাত্রার শুভ সূচনা করবেন। এরপর বিকেল সাড়ে তিনটায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে রথযাত্রা। বিকেল সাড়ে চারটার মধ্যে তিনটি রথ গুণ্ডিচা মন্দিরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখানে আবারও বিশেষ ধর্মীয় আচার পালনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচির সমাপ্তি হবে।

দিঘার জগন্নাথ মন্দির ইতিমধ্যেই পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক তীর্থক্ষেত্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। তাই শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এমনকি বিদেশ থেকেও বহু ভক্ত এই উৎসবে অংশ নিতে দিঘায় আসছেন। মন্দির কর্তৃপক্ষের বিশ্বাস, এই রথযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও ঐক্যের এক অনন্য বার্তা বহন করে।

রথযাত্রাকে ঘিরে নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও কোনওরকম খামতি রাখা হচ্ছে না। অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি, সাদা পোশাকের পুলিশ এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। বিপুল সংখ্যক ভক্ত ও পর্যটকের সমাগমের কথা মাথায় রেখে প্রশাসন ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, ভিড় সামলানো এবং জরুরি পরিষেবার ব্যবস্থাও জোরদার করেছে।

এবারের রথযাত্রায় দিঘার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে চন্দননগরের আলোকসজ্জা। রাতের আলোয় ঝলমল করা রাস্তা, মন্দির এবং আশপাশের পরিবেশ উৎসবের আবহকে আরও মোহময় করে তুলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *