দুর্ঘটনার পর অভিযোগ নিতে ‘না’ থানার! পুলিশ কমিশনারের হস্তক্ষেপে নড়েচড়ে বসল হেস্টিংস থানা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতাঃ পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েও মিলল না সুরাহা, উল্টে অ্যাপ ক্যাব ও ঘাতক গাড়ির মালিকদের মধ্যে ‘সমঝোতা’ হয়ে যাওয়ার অজুহাত দিয়ে যাত্রীদের ফিরিয়ে দিল থানা! খাস কলকাতার বুকে পুলিশের এই চরম অসংবেদনশীলতার বিরুদ্ধে শেষপর্যন্ত দ্বারস্থ হতে হলো স্বয়ং পুলিশ কমিশনারের। লালবাজারের শীর্ষ কর্তাদের কড়া নির্দেশের পরই টনক নড়ল স্থানীয় থানার। দুর্ঘটনার প্রায় এক মাস পর অবশেষে তৎপর হয়ে মামলা রুজু করল হেস্টিংস থানার পুলিশ।
উল্টোদিক থেকে এসে মুখোমুখি ধাক্কা বেপরোয়া মার্সেডিজের!
পুলিশ ও অভিযোগকারিণী সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছিল গত ৭ জুন দুপুরে। দক্ষিণ কলকাতার চেতলা হাট এলাকার বাসিন্দা ওই মহিলা তাঁর কয়েকজন আত্মীয়ের সঙ্গে একটি অ্যাপ ক্যাব বুক করে হেস্টিংসের ডি এল খান রোড ধরে যাচ্ছিলেন।
অভিযোগ, সেই সময় উল্টোদিক থেকে অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে একটি বিলাসবহুল মার্সেডিজ গাড়ি এসে রাস্তার মাঝখানের হলুদ রেখা পেরিয়ে সরাসরি ওই অ্যাপ ক্যাবটিকে মুখোমুখি ধাক্কা মারে। ধাক্কার তীব্রতায় অ্যাপ ক্যাবের পিছন দিক থেকে আসা আর একটি ছোট মালবাহী গাড়িও সেটিকে ধাক্কা দেয়। এই জোড়া ধাক্কায় ক্যাবের ভেতরে থাকা চালকসহ সমস্ত যাত্রী মাথা ও শরীরে গুরুতর চোট পান।
হাসপাতালে দুর্ভোগ ও থানার ‘অদ্ভুত’ যুক্তি
রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অভিযোগকারিণী ও তাঁর আত্মীয়দের মাথায় ও শরীরে একাধিক সেলাই করতে হয়। শারীরিক যন্ত্রণার পাশাপাশি কাগজপত্রের জটিলতায় গভীর রাত পর্যন্ত তাঁদের হাসপাতালেই আটকে থাকতে হয়। এরপর আহত অবস্থাতেই তাঁরা হেস্টিংস থানায় লিখিত অভিযোগ জানাতে যান।
কিন্তু অভিযোগকারিণীর দাবি, থানায় পৌঁছনোর পর এক পুলিশ আধিকারিক তাঁদের জানান যে, অ্যাপ ক্যাব ও মার্সেডিজ গাড়ির মালিকদের মধ্যে নাকি ইতিমধ্যেই ‘সমঝোতা’ হয়ে গিয়েছে! তাই যাত্রীরা আহত হলেও আইনিভাবে কোনো দাবি বা অভিযোগ করতে পারবেন না। পুলিশের এই অদ্ভুত ও অসংবেদনশীল যুক্তিতে মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েন আক্রান্ত যাত্রীরা।
কমিশনারের হস্তক্ষেপে শুরু তদন্ত
থানার থেকে কোনো সাহায্য না পেয়ে বাধ্য হয়েই সুবিচারের আশায় কলকাতা পুলিশ কমিশনার ও ডিসি (সাউথ)-কে চিঠি লিখে গোটা বিষয়টি জানান ওই মহিলা। লালবাজারের সর্বোচ্চ মহল থেকে নির্দেশ আসতেই নড়েচড়ে বসে হেস্টিংস থানার পুলিশ। শনিবার অজ্ঞাতপরিচয় চালকের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ডি এল খান রোডের ঠিক কোন জায়গায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছিল, সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। দুর্ঘটনার পর ঘাতক মার্সেডিজ গাড়ির চালক ও মালিকের সন্ধান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এই ঘটনা ফের একবার কলকাতার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং স্থানীয় থানার ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।
