তৃণমূলের ১৫টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে নজরে ১০০০ কোটি
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার দিনই আর্থিক লেনদেন ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ইস্যুতে বড়সড় বিপাকে পড়লেন ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের ফ্রিজ বা অ্যাকাউন্ট ব্লক হওয়া তিনটি অ্যাকাউন্টের মধ্যে মাত্র একটিতেই খোদ ৪২০ কোটি টাকার হদিস পেয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। আর সেই অ্যাকাউন্টটি খতিয়ে দেখতে গিয়েই ইডি আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন, ওই বিপুল অঙ্কের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে চেক সই করার মূল ক্ষমতা (সাইনিং অথরিটি) রয়েছে খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
বেসরকারি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে ডেরেক-অভিষেক জুটি
ইডি সূত্রে জানা গেছে, অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস-এর নামে একটি নামী বেসরকারি ব্যাঙ্কে এই অ্যাকাউন্টটি রয়েছে। সেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যৌথভাবে চেক সই করার ক্ষমতা রয়েছে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়নের।
কয়লা, বালি ও অন্যান্য আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে নেমে ইডি এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের মোট তিনটি প্রধান ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে, যার মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৪৪০ কোটি টাকা। এই ৪৪০ কোটির সিংহভাগ, অর্থাৎ ৪২০ কোটি টাকাই রয়েছে ওই একটি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে। বাকি ২০ কোটি টাকা রয়েছে AITC গোয়া এবং ত্রিপুরার নামে থাকা অন্য দুটি অ্যাকাউন্টে। ওই দুটি অ্যাকাউন্টের সাইনিং অথরিটি বা সই করার ক্ষমতা রয়েছে শুভাশিস চক্রবর্তী ও প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের হাতে। তবে ইডির মূল নজরে এখন ৪২০ কোটির ওই হাইপ্রোফাইল অ্যাকাউন্টটিই।
কেন এক অ্যাকাউন্টে এত টাকা? তলব হতে পারেন অভিষেক
একটি রাজনৈতিক দলের একটিমাত্র অ্যাকাউন্টে কেন এবং কী উদ্দেশ্যে এত বিপুল পরিমাণ টাকা রাখা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে চাইছে ইডি। এই টাকার উৎস কী, তা জানতে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি ব্যাঙ্কের কাছ থেকে সমস্ত নথি ও স্টেটমেন্ট তলব করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। তদন্তের স্বার্থে এবং আয়ের উৎসের অসঙ্গতি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আগামী দিনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইডি দপ্তরে তলব করা হতে পারে বলেও সূত্রের খবর।
রাজ্য পুলিশের তৎপরতা: ফ্রিজ আরও ১২টি অ্যাকাউন্ট
ইডি-র ফ্রিজ করা ৩টি অ্যাকাউন্ট ছাড়াও তৃণমূল কংগ্রেসের আরও ১২টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। রাজ্য পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তের অগ্রগতির স্বার্থে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিকে আরও ১২টি অ্যাকাউন্ট ব্লক করার আবেদন জানানো হয়েছিল। পুলিশের সেই আবেদন মেনে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করেছে। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ঘাসফুল শিবিরের মোট ১৫টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হলো, যাতে জমা থাকা টাকার পরিমাণ ১০০০ কোটি টাকারও বেশি!
“তৃণমূল মানেই চোর, ওটা হিমশৈলের চূড়া”— কটাক্ষ সজল ঘোষের
তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে বিপুল টাকার হদিস এবং অভিষেকের সই করার ক্ষমতা প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। দলের বিধায়ক সজল ঘোষ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ করে বলেন: “দেবরাজের (দেবরাজ চক্রবর্তী) ঘরে যদি ১৩০০ কোটি টাকা থাকে, তাহলে যুবরাজের ঘরে কখনও ৪০০ কোটি টাকা হবে? এরা হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি করেছে। আপনারা এখন যেটা দেখছেন, সেটা হিমশৈলের চূড়ামাত্র। একসঙ্গে ১০০০-২০০০ কোটি টাকা পুরোটা বেরিয়ে পড়লে বাংলার অর্ধেক মানুষ হার্টফেল করে মারা যাবে। বড় বড় শিল্পপতিরা যদি দেখে যে মাত্র ১৫ বছরে একটা ছেলে ৫০০০ থেকে ১০০০০ কোটি টাকা করে ফেলেছে, তাহলে তারা ভাববে সারাজীবন ব্যবসা করে কেন কষ্ট করলাম, তৃণমূল করলেই তো হতো! তৃণমূল মানেই চোর, আর চোরেদের যুবরাজ হলেন এই অভিষেক।”
একদিকে আদালতের ধাক্কা, অন্যদিকে ১০০০ কোটির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ ও ইডির স্ক্যানার— সব মিলিয়ে ছাব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কালীঘাট শিবিরের ওপর চাপ যে বহুগুণ বেড়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।
