আজকের দিনেবাংলার আয়না

আগামিকাল ফের সূর্যপুরে মুখ্যমন্ত্রী, পরিদর্শনে আইজি; খুশি মৃত ইন্দ্রজিতের পরিবার

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,বারুইপুর: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুন এবং তার জেরে এক যুবকের গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি এখনও উত্তপ্ত। এই আবহে আগামিকাল, অর্থাৎ শনিবার ফের বারুইপুরে একাধিক কর্মসূচি নিয়ে হাজির হচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি নির্যাতিতার পরিবারের পাশাপাশি গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের (কুণ্ডু) বাড়িতেও যাবেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই হাইপ্রোফাইল সফরের আগে আজ, শুক্রবার সকালেই এলাকা পরিদর্শনে যান আইজি (প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ) কঙ্করপ্রসাদ বারুই।

শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর ঠাসা কর্মসূচি

দিনকয়েক আগেই বারুইপুরে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, গণপিটুনিতে নিহত যুবক সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিলেন। তিনি নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথাও বলেন। আগামিকাল শনিবার তিনি ফের বারুইপুরে আসছেন। নবান্ন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার তিনি প্রথমে বারুইপুরে একটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করবেন। এরপর তিনি নির্যাতিতা নাবালিকার বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন। সেখান থেকে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি যাবেন গণপিটুনিতে মৃত ইন্দ্রজিতের বাড়িতে।

 নিহতের পরিবারের ঘর মেরামত ও নিরাপত্তা

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই নড়চড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যেই সরকারের তরফ থেকে মৃত ইন্দ্রজিতের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি মেরামতের কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু করে দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সার্বিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে বাড়ির সামনে চব্বিশ ঘণ্টা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। শুধু তাই নয়, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই অসহায় পরিবারটিকে খাদ্যসামগ্রী এবং নতুন জামাকাপড়ও দেওয়া হয়েছে। বিপদের দিনে সরকার এভাবে পাশে দাঁড়ানোয় খুশি ইন্দ্রজিতের পরিবার। তবে তাঁদের এখন একটাই প্রধান দাবি— “যারা নির্দোষ ইন্দ্রজিৎকে পিটিয়ে মারল, সেই দোষীরা যেন কঠোরতম সাজা পায়।”

বারুইপুর কাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও এযাবৎ পুলিশি অ্যাকশন

ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার। সেদিন থেকেই বারুইপুরের ওই নাবালিকা নিখোঁজ ছিল। এরপর রবিবার সকালে স্থানীয় একটি পুকুর থেকে তার বস্তাবন্দি ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ ওঠে, নাবালিকাকে গণধর্ষণের পর নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে উত্তেজিত জনতা এবং সন্দেহের বশে ইন্দ্রজিৎ নামে ওই যুবককে পিটিয়ে খুন করা হয়।

ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে তৎক্ষণাৎ অ্যাকশনে নামে পুলিশ প্রশাসন। মূল ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের জন্য গঠন করা হয় ৬ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’।

পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারুইপুরে এসে নিহত যুবককে নির্দোষ ঘোষণা করার পাশাপাশি এই পুরো গণপিটুনির ঘটনার পেছনে গভীর সাম্প্রদায়িক উসকানি থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পর এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে গণপিটুনি ও অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে এখনও পর্যন্ত ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আগামিকাল মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে গোটা বারুইপুর জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *