ভিনধর্মী যুবকের সঙ্গে প্রেম, নাবালিকার আত্মহত্যার জেরে রণক্ষেত্র বনগাঁর গোপীনাথপুর!
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,বনগাঁ: ভিনধর্মী যুবকের সঙ্গে প্রেমের টানাপোড়েন এবং তার জেরে অষ্টম শ্রেণির এক নাবালিকার আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর গোপীনাথপুর এলাকা। প্রতিবাদ মিছিল থেকে দফায় দফায় হামলা, পালটা হামলা ও বাড়ি-দোকান ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে উন্মত্ত জনতার রোষের মুখে পড়তে হয় পুলিশকেও। ইঁট-লাঠির ঘায়ে দুই আধিকারিকসহ অন্তত ৭ জন পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন বলে খবর। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় নামানো হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত
দিনকয়েক আগে বনগাঁর গোপালনগর থানা এলাকায় অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় নাবালিকার পরিবারের পক্ষ থেকে ভিনধর্মের এক যুবকের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ এনে গোপালনগর থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়। পরিবারের দাবি, ওই যুবক নাবালিকাকে প্রেমের জালে ফাঁসিয়েছিল। পরবর্তীতে নাবালিকা সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে তাকে ক্রমাগত হুমকি ও ভয় দেখানো শুরু করে ওই যুবক। সেই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই নাবালিকা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় বলে অভিযোগ। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তারও করে।
প্রতিবাদ মিছিল ও হিংসাত্মক রূপ
অভিযুক্ত যুবক গ্রেপ্তার হলেও এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। বেশ কিছু হিন্দু সংগঠনের পক্ষ থেকে একে ‘লাভ জেহাদ’-এর তকমা দিয়ে সরব হওয়া শুরু হয়। এরই পরিপ্রক্ষিতে, বৃহস্পতিবার ‘সনাতনী ঐক্য মঞ্চ’-এর পক্ষ থেকে গোপীনাথপুর এলাকায় মৃত নাবালিকার উদ্দেশ্যে একটি স্মরণসভা ও প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকালে সেই মিছিল চলাকালীন হঠাৎই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মিছিল থেকে কয়েকশো মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে স্থানীয় তিনটি বাড়ি এবং তিনটি দোকানে আচমকা চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা।
পুলিশের ওপর হামলা ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন
খবর পেয়ে বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উন্মত্ত জনতা পুলিশের ওপরও চড়াও হয়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইঁট ও লাঠি ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ। এই হামলায় দুই পুলিশ আধিকারিকসহ মোট সাতজন পুলিশকর্মী গুরুতর জখম হন। পরবর্তীতে পুলিশ কঠোর হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এলাকায় নতুন করে অশান্তি এড়াতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা রুট মার্চ শুরু করেন। বাড়ি ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
বিধায়কের প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনা প্রসঙ্গে বনগাঁ দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদার সংবাদমাধ্যমকে জানান: “লাভ জিহাদের প্রতিবাদে অনেক হিন্দু আজ একত্রিত হয়েছিল বলে শুনেছি। এভাবে হিন্দু মেয়েদের প্রেমের জালে ফাঁসানোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। তবে আইন কেউ নিজেদের হাতে তুলে নেবেন না। যা করার পুলিশের মাধ্যমে, আইনের পথেই করতে হবে। পুলিশের ওপর আক্রমণের ঘটনাও অত্যন্ত অন্যায়।”
বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। নতুন করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী কড়া নজরদারি চালাচ্ছে
