ভারত আর জাপানের মধ্যে গোপন জোট, বেজায় চাপে লালমুখো ড্রাগনের দেশ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা- ভারত আর জাপানের মধ্যে গোপন জোটে টেনশন বাড়ছে চীনের। ইন্দো-প্যাসিফিকে দীর্ঘদিন ধরে নিজের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে চীন। কিন্ত এখন বেইজিংয়ের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা শুধু মার্কিন মুলুকের নয়, বরং ভারত ও জাপানের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সহযোগিতা। ভারত ও জাপানের মধ্যে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এই ঘনিষ্ঠতা চীনের কৌশলগত উদ্বেগ বাড়িয়েছে বলে বহু আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকের মত। তবে এটিকে “গোপন জোট” বলা পুরোপুরি সঠিক নয়, কারণ দুই দেশের সহযোগিতার অধিকাংশ দিকই প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। ভারত ও জাপান দীর্ঘদিন ধরেই কৌশলগত অংশীদার। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, যৌথ সামরিক মহড়া, উন্নত প্রযুক্তি, সাপ্লাই চেইন এবং অবকাঠামো উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করছে। এর প্রধান লক্ষ্য হলো ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি মুক্ত, নিরাপদ এবং নিয়মভিত্তিক সামুদ্রিক পরিবেশ বজায় রাখা। জাপান ভারতের অন্যতম বৃহৎ বিনিয়োগকারী। মেট্রো রেল, বুলেট ট্রেন প্রকল্প, শিল্প করিডর এবং বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে জাপানি বিনিয়োগ ভারতের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। পাশাপাশি দুই দেশ উৎপাদন খাতে যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে।
দুই দেশ গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সামরিক সরঞ্জাম উন্নয়ন এবং লজিস্টিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে প্রয়োজনে একে অপরের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করাও সহজ হয়েছে। চীন বিভিন্ন সময়ে বলেছে, আঞ্চলিক সহযোগিতা যেন কোনো তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে না হয়। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-জাপান সম্পর্ক যত শক্তিশালী হচ্ছে, ততই বেইজিং তার কৌশলগত অবস্থান নিয়ে সতর্ক হচ্ছে, বিশেষ করে পূর্ব চীন সাগর, দক্ষিণ চীন সাগর এবং ভারত মহাসাগরে।
