রাম মন্দির তহবিল তছরুপ: সিবিআই তদন্তের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, উত্তরপ্রদেশ:- অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদান চুরি ও তহবিল তছরুপের ঘটনা ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তভার সিবিআই -এর হাতে তুলে দেওয়ার আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি শীল নাগুর বেঞ্চে এই মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয়। তবে শীর্ষ আদালত আপাতত জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, “এই ঘটনার তদন্তে কিছুটা দেরি হলে আকাশ ভেঙে পড়বে না।” আদালত জানায়, গ্রীষ্মের ছুটির পরেই এই মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ বা শুনানি হতে পারে।
তদন্তকারী সংস্থা সিট (SIT)-এর রিপোর্টে রাম মন্দিরের বিশাল আর্থিক অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে:
-
মন্দিরে ৩,৫০০ কোটি টাকারও বেশি নগদ প্রণামী জমা পড়েছে।
-
নগদ অর্থের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ সোনা-রুপোর গয়না এবং দান করা রুপোর তৈরি ‘ভূষণ্ডির কাক’-এর মতো মূল্যবান সামগ্রীর হদিশ মিলছে না।
-
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, মন্দির ট্রাস্টের শীর্ষ কর্তারা এই চুরির বিষয়ে আগে থেকেই অবগত ছিলেন, তবুও পুলিশের দ্বারস্থ হতে বা এফআইআর দায়ের করতে দীর্ঘ সময় বিলম্ব করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মন্দির কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করেছিল।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে বিরোধী শিবিরের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা কেবল ‘চুনোপুঁটি’। কংগ্রেস নেতা রাজীব শুক্লা সরাসরি অভিযোগ করেছেন, “চুরির অঙ্ক যখন কয়েক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়, তখন এর নেপথ্যে বড় মাথারা বা ‘রাঘব বোয়াল’রা অবশ্যই জড়িত। তাঁদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে।”
রাজীব শুক্লা আরও দাবি করেন, ঘটনার গুরুত্ব বুঝে সুপ্রিম কোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্তের তদারকি করা উচিত। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন তিনি। পুরো ঘটনাটি যেভাবে সামনে আসছে, তাতে ট্রাস্টের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং দায়বদ্ধতা নিয়ে এখন দেশজুড়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।
