এবার পুলিশের জালে ফিরহাদ ‘ঘনিষ্ঠ’ শামস ইকবাল!
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরই কি এবার আইনের জালে শাসকদলের ‘প্রভাবশালী’ নেতারা? জোড়া কাউন্সিলর গ্রেপ্তারের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল। একদিকে ৭০ লক্ষ টাকা তোলাবাজি ও হুমকির অভিযোগে গার্ডেনরিচ থানার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলেন কলকাতা পুরসভার ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা ফিরহাদ হাকিম ‘ঘনিষ্ঠ’ শামস ইকবাল। অন্যদিকে, খড়দহ থানার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন পানিহাটির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর জয়ন্ত দাসও।
ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি, অস্ত্র আইনে মামলা শামসের বিরুদ্ধে
পুলিশ সূত্রে খবর, মেটিয়াবুরুজের ব্যবসায়ী মহম্মদ শাদাবের অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে শামস ইকবাল ওরফে অনিলকে। অভিযোগ, ২০২৩ সালের জুন মাসে শামস এবং তাঁর অনুগামীরা ওই ব্যবসায়ীর কাছে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া এবং পরিবারের লোকজনকে খুনের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
ব্যবসায়ীর দাবি, টাকা দেওয়ার পরেও লাগাতার হুমকি দেওয়া হতে থাকে। এই ঘটনায় শামস ইকবাল ছাড়াও মহম্মদ ফারাজ ওরফে বুন এবং ফিরোদ কুরেশি ওরফে চুরি ফিরোজের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তে নেমে গার্ডেনরিচ থানার পুলিশ শামসকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন-সহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
বিতর্কের আরেক নাম শামস ইকবাল!
উল্লেখ্য, শামস ইকবালের বিতর্কে জড়ানো এই প্রথম নয়। কাউন্সিলর হওয়ার পর কলকাতা পুরসভায় কোটি টাকার বিলাসবহুল গাড়ি চড়ে এসে প্রথম শোরগোল ফেলেছিলেন তিনি। এছাড়াও গার্ডেনরিচ চত্বরে বেআইনি নির্মাণ-সহ একাধিক মামলা রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। শুধু শামস নন, তাঁর বাবা মুন্না ইকবালের অতীতও বেশ বিতর্কিত। গার্ডেনরিচে পুলিশকর্মী তাপস চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের ঘটনাতেও নাম জড়িয়েছিল মুন্না ইকবালের। এবার সেই শামস নিজেই শ্রীঘরে।
খড়দহ থানার জালে পানিহাটির কাউন্সিলর জয়ন্ত দাস
এদিকে, উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি এলাকাতেও পুলিশের বড়সড় অ্যাকশন। তোলাবাজির পুরোনো মামলায় খড়দহ থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে পানিহাটির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর জয়ন্ত দাসকে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, তৃণমূল সরকারের আমলে জয়ন্তর বিরুদ্ধে একাধিকবার থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও, তৎকালীন সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেই দাবি। সম্প্রতি ভোটের পর জয়ন্তর বাড়িতে কয়েকজন চড়াও হলে বিজেপি কর্মীদের মারধর করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর নতুন করে খড়দহ থানায় অভিযোগ দায়ের হতেই এবার জয়ন্তকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।
একই দিনে দুই হেভিওয়েট তৃণমূল কাউন্সিলরের গ্রেপ্তারের ঘটনায় রাজ্য জুড়ে জোর রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। আইনের এই কড়া পদক্ষেপের পর আগামী দিনে আর কোনো কোনো প্রভাবশালীর নাম সামনে আসে, এখন সেটাই দেখার।
