লুঙ্গি পরে আসায় বৃদ্ধকে বাড়ি পাঠাল জওয়ানরা, শোরগোল গাইঘাটায়
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, গাইঘাটা: ভোট মানেই কি বিশেষ কোনো পোশাকবিধি? বুধবার দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক আজব ‘ফতোয়া’ ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। লুঙ্গি পরে ভোট দিতে আসায় এক বৃদ্ধ ভোটারকে বুথ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল বাহিনীর জওয়ানদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিড়ম্বনা ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে গাইঘাটার বেড়গুম ১ নম্বর পঞ্চায়েতের কুঁচলিয়া এলাকায়।
লুঙ্গিতে ‘না’, প্যান্টেই ‘হ্যাঁ’
কুঁচলিয়া গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ আবদুল রউফ মণ্ডল আর পাঁচটা দিনের মতোই নিজের চিরকালীন পোশাক লুঙ্গি পরেই ভোট দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু বুথের প্রবেশপথে তাঁকে আটকে দেয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। অভিযোগ, তাঁর পোশাক নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলা হয় যে লুঙ্গি পরে ভোট দেওয়া যাবে না। কোনো যুক্তি না শুনেই তাঁকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
বাধ্য হয়ে বাড়ি ফিরে নাতির কাছ থেকে একটি প্যান্ট ধার করেন ওই বৃদ্ধ। সেই প্যান্ট পরেই ফের বুথে গেলে এবার তাঁকে অনায়াসেই ঢুকতে দেওয়া হয়। পরে জানা যায়, আবদুল রউফ একা নন, গ্রামের আরও বেশ কয়েকজন প্রৌঢ় ও বৃদ্ধ ভোটারকে একই কারণে হেনস্তা হতে হয়েছে।
ভোটের দিনে ‘ফতোয়া’ বিতর্ক
গ্রামাঞ্চলে লুঙ্গি পরা পুরুষদের একটি অত্যন্ত সাধারণ ও প্রচলিত পোশাক। এর আগে কোনো নির্বাচনেই এই পোশাক নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, বাহিনীর জওয়ানরা গ্রামের মানুষের সংস্কৃতি না বুঝে অহেতুক হেনস্তা করছে।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়েছে:
“কেন্দ্রীয় বাহিনী কী খাবে বা কী পরবে, তা ঠিক করে দেওয়ার কেউ নয়। সাধারণ ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়ার এটি একটি নতুন কৌশল।”
বিক্ষোভের মুখে নতিস্বীকার
এই ‘পোশাক ফতোয়া’র খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীরা বুথের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে পরবর্তী সময়ে এই কড়াকড়ি শিথিল করতে বাধ্য হয় বাহিনী। বিকেল গড়ানোর পর থেকে লুঙ্গি পরে আসায় আর কোনো ভোটারকে বাধা দেওয়া হয়নি। প্রিসাইটিং অফিসার বা বাহিনীর তরফ থেকে এই বিষয়ে কোনো লিখিত ব্যাখ্যা পাওয়া না গেলেও, এই ঘটনা বাহিনীর ‘অতিসক্রিয়তা’র তালিকায় আরও একটি বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে জুড়ে গেল।
দিকে দিকে বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ
কেবল গাইঘাটা নয়, দ্বিতীয় দফার ভোটে রাজ্যের অন্যান্য প্রান্ত থেকেও বাহিনীর বিরুদ্ধে মারধর ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে। জামালপুর ও বাগদায় সাধারণ ভোটার এবং জনপ্রতিনিধিদের ওপর হামলার খবর সামনে এসেছে। এই আবহে গাইঘাটার ‘পোশাক বিতর্ক’ বাহিনীর নিরপেক্ষতা ও সংবেদনশীলতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।
