আজকের দিনেতিলোত্তমা

এবার বদলাবে কলকাতা বইমেলার রূপরেখা? একজোট হচ্ছেন ৭০০ প্রকাশক

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলাকে কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের বাইরে এনে আরও উন্মুক্ত ও সর্বজনীন করার দাবি উঠল। বর্তমানে এই মেলা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ‘পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ড’-এর একাধিপত্যের বিরুদ্ধে এবার কোমর বাঁধছে সংঘ পরিবার-ঘনিষ্ঠ প্রকাশক, মুদ্রক ও বই বিক্রেতাদের নবগঠিত সংগঠন ‘বঙ্গীয় গ্রন্থশিল্প পরিষদ’। আগামী বছরের ৫০তম (সুবর্ণ জয়ন্তী) আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলাকে ঘিরে এই ক্ষোভ এবার প্রকাশ্য রূপ নিতে চলেছে।

এই লক্ষ্যেই আগামীকাল, ২৯ জুন কলকাতার মহাজাতি সদনে প্রখ্যাত সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একটি বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করেছে পরিষদ।  যদিও অনুষ্ঠানটির মূল উদ্দেশ্য সাহিত্যিককে শ্রদ্ধা জানানো, তবু এর মূল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক এজেন্ডা যে আগামী বইমেলার রূপরেখা বদল করা— তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

পরিষদের সদস্য সপ্তর্ষি চৌধুরী জানান, এই অনুষ্ঠানে কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট এবং বিভিন্ন জেলার ৭০০-রও বেশি প্রকাশক, মুদ্রক ও বই বিক্রেতা অংশ নিতে চলেছেন। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, আরএসএস-এর পূর্ব ক্ষেত্র প্রচার প্রমুখ জিষ্ণু বসু এবং কবি বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

সংগঠনের অন্যতম আহ্বায়ক দেবজিৎ সরকার স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কলকাতা বইমেলা শুধু একটি সংগঠনের নয়, গোটা বাংলার বইমেলা হওয়া উচিত। বই বাংলা সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এই শিল্পের সঙ্গে হাজার হাজার মানুষের জীবিকা জড়িত। আমাদের লক্ষ্য, আগামী ৫০তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা এমন হোক যেখানে কোনও গোষ্ঠীর একচেটিয়া প্রভাব থাকবে না।”

তিনি আরও দাবি করেন, শুধু কলেজ স্ট্রিটের গুটিকয়েক বড় প্রকাশনা সংস্থা নয়, মেলার সুবর্ণ জয়ীন্তি সংস্করণে বাংলার বিভিন্ন জেলার ছোট-বড় প্রকাশক সংগঠনগুলিকেও সমান গুরুত্ব ও সুযোগ দিতে হবে।

উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, বিগত বাম আমল থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকাল পর্যন্ত কলকাতা বইমেলার আয়োজনে কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রকাশনা সংস্থার আধিপত্য ছিল। বিজেপির পক্ষ থেকেও অতীতে বারবার অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, বইমেলায় কড়া রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব করা হতো। তৎকালীন সরকারের সমালোচক বা ভিন্ন মতাদর্শের প্রকাশকদের স্টল দেওয়া হতো না বা বঞ্চিত করা হতো এবং মেলাকে শাসকদলের প্রচারের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা ব্যক্তিগতভাবে মত প্রকাশ করেছেন যে, বর্তমান গিল্ডের পরিবর্তে এমন একটি নতুন ও সর্বজনগ্রাহ্য স্বশাসিত সংস্থা গঠন করা প্রয়োজন, যেখানে প্রকাশকদের রাজনৈতিক মতাদর্শ দেখা হবে না। বরং বইয়ের মান এবং প্রকাশনার গুণগত উৎকর্ষই হবে মেলায় অংশগ্রহণের একমাত্র মাপকাঠি। ২৯ জুনের এই কর্মসূচির পর বইমেলার রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে বাংলার সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মহলে যে নতুন টানাপোড়েন শুরু হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *