এবার উচ্ছেদের নোটিস শিয়ালদহ ও সুকান্ত সেতুতে, নজরে যাদবপুরের বস্তি !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: বাংলায় নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে সরকারি জমি জবরদখল ও বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজে নজিরবিহীন গতি এসেছে। তপসিয়া, কসবা, পার্ক সার্কাসে বুলডোজার অ্যাকশনের পর হাওড়া, শিয়ালদহ ও দমদম স্টেশনের আশপাশ সাফ করেছে প্রশাসন। এবার কলকাতার যানচলাচলের অন্যতম দুই লাইফলাইন— শিয়ালদহের বিদ্যাপতি সেতু এবং যাদবপুর-সন্তোষপুরের সংযোগকারী সুকান্ত সেতুর নিচের বেআইনি দখলদারি হঠাতে কোমর বাঁধল কলকাতা পুরসভা।
শনিবার পুরসভার তরফে শহরের দুই প্রান্তের এই দুই ব্যস্ত উড়ালপুলের নিচে সুনির্দিষ্ট নোটিস ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। জবরদখলকারীদের ব্যবসা গুটিয়ে সরে যাওয়ার জন্য মাত্র ৭ দিনের চরম সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে পুর প্রশাসন।
পুরসভার কড়া নির্দেশিকা:
-
আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দুই সেতুর নিচের সমস্ত বেআইনি দোকান ও জবরদখল স্বেচ্ছায় সরাতে হবে।
-
নির্দিষ্ট সময়ে জবরদখল না সরলে ‘কলকাতা পুর কর্পোরেশন আইন ১৯৮০’-র সুনির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী বলপূর্বক উচ্ছেদ ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
-
সুলেখা ক্রসিং থেকে গোপালনগর পর্যন্ত বিস্তৃত সুকান্ত সেতুর নিচের সান্ধ্য বাজার ও হকার্স মার্কেট। অন্যদিকে, শিয়ালদহ বিদ্যাপতি সেতুর নিচে গজিয়ে ওঠা ঝাঁকে ঝাঁকে দোকান ও বিশাল বাজার।
শুধু উড়ালপুলের নিচেই নয়, কলকাতার বুকে দশকের পর দশক ধরে চলা বড় বড় জবরদখল উচ্ছেদেও এবার মরিয়া প্রশাসন। গত সপ্তাহেই ঢাকুরিয়া থেকে শুরু করে যাদবপুর স্টেশন লাগোয়া বিশাল বস্তি এলাকা খালি করার জন্য পুরসভার পক্ষ থেকে নোটিস সেঁটে দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, রেললাইনের ধারের ওই সরকারি জমি জবরদখল করে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার বাসিন্দা বসবাস করছেন। যুগের পর যুগ ধরে চলা এই বেআইনি দখলে শুধু যে ঝুপড়ি তা-ই নয়, গজিয়ে উঠেছে একাধিক পাকা দোতলা বাড়িও।
নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্য ও শহরের পরিকাঠামো উন্নয়নে পুরসভার এই একের পর এক কড়া উচ্ছেদ নোটিসকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই কলকাতার রাজনৈতিক মহলে পারদ চড়তে শুরু করেছে।
