ওষুধ গবেষণায় গতি আনতে আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করল কেন্দ্র
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- দেশের ওষুধ উৎপাদন ক্ষেত্রে গবেষণা ও উদ্ভাবনের গতি ত্বরান্বিত করার জন্য একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্র সরকার, যা ড্রাগ রেগুলেটরি সিস্টেমকে আধুনিকীকরণের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। ১৯৪৫ সালের ড্রাগস রুলস-এ একটি খসড়া সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মাধ্যমে পরীক্ষা এবং বিশ্লেষণের জন্য বিদেশ থেকে সামান্য পরিমাণে ওষুধ আমদানির প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও সরল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক। এই পদক্ষেপের ফলে ওষুধ গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) ক্ষেত্রের প্রশাসনিক জটিলতা অনেকটাই কমবে, যা বিশেষ করে নতুন স্টার্ট-আপ এবং ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির জন্য উপকারী হবে। দেশের স্বাস্থ্যখাতে স্বনির্ভরতা বাড়ানোর লক্ষ্য সামনে রেখে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
লাইসেন্সের জটিলতা কমে: চালু হচ্ছে ‘অ্যাকনলেজমেন্ট’ ব্যবস্থা
নতুন নিয়মে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা ও বিশ্লেষণের জন্য ছোট পরিমাণের ওষুধ আমদানির ক্ষেত্রে লাইসেন্সের প্রয়োজনীয়তা থাকছে না। এর আগে ‘ফর্ম ১১’-এর মাধ্যমে লাইসেন্স নেওয়ার প্রয়োজন হতো, যা ছিল একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। নতুন প্রস্তাবে কোনও সংস্থা বা স্টার্ট-আপ যদি অ্যানালিটিক্যাল বা নন-ক্লিনিক্যাল টেস্টিংয়ের জন্য সামান্য পরিমাণে ওষুধ আনতে চায়, তবে তাদের শুধু একটি ‘প্রায়র ইনটিমেশন’ ফর্ম জমা দিতে হবে। সেই ফর্ম জমা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একটি অনলাইন অ্যাকনলেজমেন্ট পাওয়া যাবে, যা ওষুধ আমদানির অনুমোদনের জন্য কাজ করবে। এর ফলে অনুমোদনের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হবে না এবং ওষুধ আমদানির প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত ও সহজ হবে।
কোন কোন ওষুধের ক্ষেত্রে ছাড় মিলবে না?
ছাড় দেওয়া হলেও সুরক্ষার স্বার্থে বেশ কিছু ক্যাটাগরির ওষুধকে এই নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে। খসড়া সংশোধনী অনুযায়ী, সেক্স হরমোন , সাইটোটক্সিক ড্রাগস , বিটা ল্যাকটাম ড্রাগস , জীবন্ত অণুজীব যুক্ত বায়োলজিক্স এবং নারকোটিক ও সাইকোট্রপিক জাতীয় ওষুধের ক্ষেত্রে এই নিয়ম খাটবে না। এই ধরনের ওষুধ আমদানির জন্য আগের মতোই বাধ্যতামূলকভাবে অগ্রিম লাইসেন্স নিতে হবে।
গবেষণায় গতি, স্বাস্থ্যখাতে স্বনির্ভরতা
ছবির দেয়াল চিত্রে লেখা ‘গবেষণায় গতি, স্বাস্থ্যখাতে স্বনির্ভরতা’ বার্তাটি এই নতুন পদক্ষেপের পেছনের মূল অনুপ্রেরণাকে তুলে ধরে। ওষুধ আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করে গবেষণার গতি বাড়ানোর মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যখাতে স্বনির্ভরতা অর্জন করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। ছবিতে ওষুধ গবেষণা কেন্দ্রে স্যাম্পল ডেলিভারি এবং লাইসেন্স চেকের সময় অনলাইন অ্যাকনলেজমেন্ট ব্যবহার করার প্রক্রিয়াটি দেখা যাচ্ছে, যা আমদানির প্রক্রিয়াকে সরল ও দ্রুত করবে। ওষুধের স্যাম্পলগুলির সঠিক ও নিরাপদ পরিবহনের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেমন ছবিতে দেখা যাচ্ছে ‘বৈদ্যুতিক স্যাম্পল স্টোরেজ বক্সে’ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা এবং ‘গ্লোবাল বায়ো-কুরিয়ারের’ বিশেষ প্যাকেট।
