শান্তি বৈঠকের মাঝেই হরমুজে হামলা: ইরানের গোলায় ধ্বংস সিঙ্গাপুরের জাহাজ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- সিঙ্গাপুরে যখন ইরান-আমেরিকার শান্তি আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই হরমুজ প্রণালীতে বড় হামলা চালাল তেহরান। ওমান উপকূলের কাছে ইরানের গোলাবর্ষণে ধ্বংস হয়ে গেল সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ ‘এভার লাভলি’। হামলায় জাহাজের কন্ট্রোলরুম পুরোপুরি গুঁড়িয়ে গিয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেলে হরমুজ পার হওয়ার সময় জাহাজটিকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় গোলাবর্ষণ করে ইরানের নৌবাহিনী। প্রথমে সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও জাহাজটি গতি না কমানোয় সরাসরি কন্ট্রোলরুম তাক করে হামলা চালানো হয়। গোলার আঘাতে মুহূর্তে আগুন ধরে যায় ব্রিজে। কন্ট্রোলরুম সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় জাহাজটি এখন সাগরে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও ক্রু হতাহতের খবর মেলেনি।
ব্রিটিশ নৌবাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, ওমান উপকূল থেকে প্রায় ১২ নটিক্যাল মাইল দূরে ঘটনাটি ঘটে। হামলার পরপরই এলাকায় টহল বাড়িয়েছে মার্কিন পঞ্চম নৌবহর। যদিও ঘটনা নিয়ে সরকারিভাবে মুখ খোলেনি ওয়াশিংটন বা তেহরান কেউই।
হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ‘হরমুজ আর যুদ্ধ পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরবে না’। পাশাপাশি ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডের পক্ষ থেকেও বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছিল, তেহরানের অনুমতি ছাড়া হরমুজ দিয়ে যাওয়া যেকোনও বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে যে সব দেশ ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা সমর্থন করছে, তাদের জাহাজ নজরদারিতে থাকবে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, যে সিঙ্গাপুরে ইরান-আমেরিকার শান্তি আলোচনা চলছে, সেই দেশেরই জাহাজকে টার্গেট করল ইরান। কূটনৈতিক মহলের মতে, আলোচনার টেবিলে চাপ বাড়াতেই এই হামলা। সিঙ্গাপুর সরকার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করলেও এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
বিশ্বের মোট তেল পরিবহণের প্রায় ২০ শতাংশ হয় এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ফলে এই হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ৩ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। জাহাজ চলাচল নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
শান্তি আলোচনার আবহে এই হামলা নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করল মধ্যপ্রাচ্যে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হরমুজে এই হামলা শান্তি প্রক্রিয়ায় বড় ধাক্কা দিতে পারে। তেহরানের হুঁশিয়ারি আর হামলা প্রমাণ করল, হরমুজ নিয়ে নিজেদের অবস্থান থেকে একচুলও সরতে রাজি নয় ইরান। আলোচনা চললেও হরমুজে আধিপত্য ধরে রাখতেই যে মরিয়া তেহরান, সেটা স্পষ্ট করে দিল ‘এভার লাভলি’র ধ্বংসস্তূপ।
