Manas Bhunia-TMC : আগেই ক্ষোভ উগরেছিলেন, এবার তৃণমূল ছাড়লেন মানস ভুঁইয়া — শুভেন্দুর প্রশংসার পরই ইস্তফা !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, সবং :- ভোটের পর থেকেই তৃণমূলে ‘গৃহদাহ’। একের পর এক বিধায়ক-সাংসদের বিদ্রোহে জেরবার শাসক শিবির। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন সবংয়ের প্রাক্তন বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খোলার পর অবশেষে তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদ ছাড়লেন তিনি। ইস্তফাপত্র ইতিমধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠিয়ে দিয়েছেন মানস।
বিগত কয়েকদিন ধরেই দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানাচ্ছিলেন মানস ভুঁইয়া। এমনকী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসাও শোনা যায় তাঁর মুখে। যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয় জল্পনা। সেই জল্পনার মধ্যেই এবার দল ছাড়লেন তিনি।
ইস্তফা প্রসঙ্গে মানস ভুঁইয়া বলেন, “আমার শিক্ষা, আমার জীবন, আমার আদর্শ বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাচ্ছে না। তাই আমি তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদ ত্যাগ করলাম।” তিনি জানান, ইস্তফাপত্র দলনেত্রীর কাছে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
মানসের ঘনিষ্ঠ ও সবংয়ের তৃণমূল নেতা আবু কালাম বক্স বলেন, “মানস ভুঁইয়ার দল ছাড়ার কথা আমি জানতে পেরেছি। তবে আমার সঙ্গে এই বিষয়ে কথা হয়নি। আমি ওঁর দল ছাড়ার বিষয়ে কিছু জানি না।”
এবারের বিধানসভা ভোটে সবং থেকে হেরে যান মানস। পরাজয়ের দায় নিজের কাঁধেই নিয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, “আমি ক্যাপ্টেন। আমি দায়ী। এই হার, জনগণের রায় মাথা পেতে নিলাম। কোথায় ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছে দেখছি।” একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসাও করেছিলেন। মানস বলেছিলেন, “উনিও মেদিনীপুরের ছেলে, আমিও মেদিনীপুরের ছেলে। আমি গর্ববোধ করি, একজন মেদিনীপুরের ছেলে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। ওঁরা যে প্রকল্প ঘোষণা করেছেন, সেগুলো বাস্তবায়িত হোক। সবং জুড়ে যে সন্ত্রাস চলছে, সেই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।”
এদিকে মানসের কাছে ভোটে জেতা সবংয়ের বিজেপি বিধায়ক অমল পণ্ডা বলেন, “মানসবাবুর এই সময়ে তৃণমূল ছাড়া উচিত হয়নি। উনি তো তৃণমূলের অন্ধভক্ত ছিলেন। দলের এই দুঃসময়ে দল ছেড়ে যাওয়া উচিত হয়নি।”
ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই একের পর এক বিদ্রোহে বিপর্যস্ত তৃণমূল। মানস ভুঁইয়ার দলত্যাগ সেই তালিকায় নতুন সংযোজন। শুভেন্দুর প্রশংসার পর তাঁর এই ইস্তফা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করল। সবংয়ের প্রাক্তন বিধায়ক এবার কোন শিবিরে যোগ দেন, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
