“তুমি কনস্টেবল, IAS-IPS হওয়ার স্বপ্ন দেখো না” — অপমানের জবাব দিলেন IPS হয়ে
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, অন্ধপ্রদেশ :- রাজামুন্দ্রির পুলিশ প্যারেড গ্রাউন্ড। সকালের ড্রিলে কয়েক মিনিট দেরি। আর তাতেই ৬০ জন সহকর্মীর সামনে তীব্র অপমান। সার্কল ইন্সপেক্টর সবার সামনে বলেছিলেন, “তুমি কনস্টেবল, IAS-IPS হওয়ার স্বপ্ন দেখো না।” সেদিন অপমানে চোখে জল এসেছিল উদয় কৃষ্ণ রেড্ডির। কিন্তু ভেঙে পড়েননি। বরং সেই অপমানকেই বানিয়েছিলেন জেদ। চাকরি ছেড়ে শুরু করেন UPSC-র লড়াই। যে ছেলেটা ছোটবেলায় বাবা-মাকে হারিয়ে ঠাকুমার সবজি বিক্রির টাকায় বড় হয়েছে, দু’বেলা খাবার জোটানো যার কাছে বিলাসিতা ছিল, সেই উদয় আজ খাকি উর্দিতে IPS অফিসার।
অন্ধ্রপ্রদেশের উদয়ের জীবনটা শুরু থেকেই লড়াইয়ের। বাবা-মাকে হারানোর পর ঠাকুমার কাছেই মানুষ। সরকারি তেলুগু মাধ্যম স্কুলে পড়া। সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। তবুও চোখে ছিল প্রশাসনিক অফিসার হওয়ার স্বপ্ন। পরিবারের দায় কাঁধে নিয়ে ১৯ বছর বয়সে ২০১৩ সালে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশে কনস্টেবল পদে ঢোকেন। ব্যাচের সবচেয়ে কম বয়সি সদস্যদের একজন।
চাকরির পাশাপাশি চলত UPSC-র প্রস্তুতি। আর সেটাই কাল হল। উদয়ের অভিযোগ, প্রস্তুতির খবর জানার পর এক সার্কল ইন্সপেক্টর তাঁকে টার্গেট করেন। পরীক্ষার দিন ইচ্ছা করে ডিউটি ফেলা, রাতভর সেন্ট্রি ডিউটি দিয়ে আটকানো— কিছুই বাদ যায়নি। ২০১৮ সালের ১০ আগস্ট ড্রিলে দেরি হওয়ায় প্রকাশ্যে অপমান চরমে ওঠে। ৬০ জন পুলিশকর্মীর সামনে শুনতে হয়, কনস্টেবলের IAS-IPS হওয়ার স্বপ্ন দেখা বারণ।
সেদিনই ঠিক করে ফেলেন, এই চাকরি আর নয়। পদত্যাগপত্র প্রথমে না নিলেও ছুটি নিয়ে পুরো সময় দেন UPSC-তে। প্রথমবার ব্যর্থ হন। অনেকেই থেমে যেত। উদয় থামেননি। নিজের ভুল শুধরে, দিনে ১২ ঘণ্টা পড়ে, মক টেস্ট দিয়ে আবার নামেন যুদ্ধে।
ফল মেলে ২০২৩ সালে। UPSC-তে অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক ৭৮০। কিন্তু তাতেও সন্তুষ্ট নন। আরও ভালো র্যাঙ্কের জন্য ২০২৪ সালে ফের বসেন পরীক্ষায়। এবার AIR ৩৫০। দরজা খুলে যায় IPS ক্যাডারের।
ঠাকুমার সবজি বিক্রির টাকা থেকে UPSC ক্র্যাক— উদয় কৃষ্ণ রেড্ডির গল্পটা শুধু সাফল্যের নয়, জেদের। প্রমাণ করে দিলেন, স্বপ্ন দেখার অধিকার সবার আছে। আর অপমান? সেটা কাউকে ভাঙে, কাউকে অফিসার বানায়।
