আজকের দিনেতিলোত্তমারাজনীতি

গ্রেফতারির আশঙ্কা! মমতা কলকাতায় ফিরলেও দিল্লি বিমানবন্দর থেকেই চলে গেলেন অভিষেক! কী হবে এবার?

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ– তিনদিনের সফর সেরে কলকাতায় ফিরলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ফিরে ফিরলেন না অভিষেক! কোথায় গেলেন তিনি? মমতার সঙ্গে কলকাতা বিমানবন্দরে দেখা যায়নি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। দিল্লি বিমানবন্দরে গিয়েও ফিরে গিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, নির্বাচনের আগে অনেক বড় বড় লম্বা-চওড়া কথা বললেও, রেজাল্ট বের হওয়ার পর থেকেই ভয়ে কাঁটা হয়ে আছেন অভিষেক। আর ডিম কাণ্ড হওয়ার পর থেকে আরও ভীত অভিষেক। এমনিতেই সই কাণ্ড নিয়ে নাজেহাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অভিষেক। গতকাল কালীঘাটের কার্যালয় সহ অভিষেকের বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে তল্লাশি অভিযান চালায় সিআইডি। সিআইডির সমনও বার বার এড়িয়ে যাচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের বিরুদ্ধে ভুরি ভুরি অভিযোগ। সই জাল কাণ্ডে গ্রেফতারি এড়াতেই কলকাতামুখো হলেন না অভিষেক, দিল্লি থেকেই ফিরে গেলেন। তৃতীয়বার সিআইডির সমন এড়িয়ে যাওয়ার পরেই গোয়েন্দা আধিকারিকেরা দমদম বিমানবন্দরের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিষেকের গতিবিধি নিয়ে খোঁজ খবর নেয়। ফলে কলকাতায় নামলেই অভিষেককে গ্রেফতারির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে সই জাল কাণ্ডে রক্ষাকবচ চেয়ে বুধবার অভিষেকের হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও জরুরি শুনানির আরজি খারিজ হয়েছে। তবে আগামীকাল, বৃহস্পতিবার ফের শুনানি হবে। সূত্রের খবর, সেই কারণেই আজ কলকাতা ফিরলেন না। দিল্লি বিমানবন্দরেও পৌঁছেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে পরিস্থিতির জটিলতা বুঝে সিদ্ধান্ত বদল করেন। ফলেই একাই কলকাতা ফিরলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

উল্লেখ্য, সই জাল কাণ্ড ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য। ভোটের ফল ঘোষণা পরেই এই ঘটনার সূত্রপাত। গত ৬ মে বিধায়কদের নিয়ে কালীঘাটে বৈঠক করেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়। ওইদিন যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা সকলে শোভনদেবকে সমর্থন জানান। কিন্তু বিধানসভায় এই সংক্রান্ত যে প্রস্তাবনা জমা দিতে হয়,  তা দেয়নি তৃণমূল। এরপর ১৩ ও ১৪ মে বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের শপথগ্রহণ হয়। শপথের পর নিয়ম মেনে সই করেন বিধায়করা। বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূলের কাছ থেকে বিরোধী দলনেতার নাম নিয়ে প্রস্তাবপত্র চান বিধানসভার সচিব। সেটি জমা দিতে ১৯ মে ফের কালীঘাটে বৈঠক ডাকা হয় বিধায়কদের। ওইদিন কেউ সকলে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে উপস্থিত সকলের সই নেওয়া হয় দলের তরফে।

মিলিয়ে দেওয়ার পর দেখা যায়, কয়েকজন অনুপস্থিত। পরে দলের প্রস্তাবিত বিরোধী দলনেতার নামে সমর্থন জানিয়ে ৭০ জনের সই করা একটি কাগজ জমা দেওয়া হয় বিধানসভায়। তৃণমূলের তরফে জানানো হয়, ওটাই বিরোধী দলনেতার প্রস্তাবনাপত্র। সেখান থেকেই সমস্যা শুরু। দুই জায়গায় তৃণমূল বিধায়কদের সই না মেলায় সন্দেহ হয় সচিবের। জল গড়ায় থানা পর্যন্ত। এফআইআর দায়ের হয়। তদন্ত শুরু করে সিআইডি। একাধিক বিধায়ককে জেরা করা হয়। দলের ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কের অভিযোগের তির অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। এর পর থেকেই তাঁকে তলব করে চলেছে সিআইডি। আর হাজিরা এড়িয়ে চলেছেন অভিষেক।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *