আজকের দিনেভারত

আপ-এ আড়াআড়ি বিভাজন! পদ খুইয়েই ‘বিদ্রোহী’ রাঘব চাড্ডা

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,নয়াদিল্লি: আম আদমি পার্টির অন্দরে দীর্ঘদিনের চাপা উত্তেজনা এবার প্রকাশ্য যুদ্ধে রূপ নিল। রাজ্যসভার ডেপুটি লিডার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরেই দলের সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে সরব হলেন রাঘব চাড্ডা। শুক্রবার সকালে একটি ভিডিও বার্তায় কার্যত বিদ্রোহ ঘোষণা করেন তিনি। পালটা দিতে দেরি করেনি আপ নেতৃত্বও। দলের জাতীয় মিডিয়া প্রধান অনুরাগ ধান্ডা স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন বলেই রাঘবকে পদ থেকে সরানো হয়েছে।

 বৃহস্পতিবারই রাঘব চাড্ডাকে ডেপুটি লিডার পদ থেকে সরিয়ে দেয় আপ। এমনকি সংসদীয় দলকে জানিয়ে দেওয়া হয়, দলের জন্য বরাদ্দ সময়ে রাঘবকে যেন বলতে না দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুক্রবার ভিডিও বার্তায় রাঘব বলেন,“আমি বুঝতে পারছি না কেন আমার কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। আমি সাধারণ মানুষের কথা বলি, তাতে আম আদমির লাভ হয়। তাহলে আম আদমি পার্টির সমস্যা কোথায়? আমাকে হয়তো নীরব করা যাবে, কিন্তু হারানো যাবে না।”

রাঘবের এই বার্তার পরেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দেয় আপ নেতৃত্ব। অনুরাগ ধান্ডা সরাসরি রাঘবকে ‘ভীতু’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “গত কয়েক বছর ধরে তুমি মোদির বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পাচ্ছ। আমরা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সৈনিক, নির্ভীকতাই আমাদের পরিচয়। যে মোদিকে ভয় পায়, সে দেশের জন্য লড়বে কী করে?”

ধান্ডা আরও অভিযোগ করেন, সংসদে দল যেটুকু সময় পায়, সেখানে রাঘব জাতীয় ইস্যু ছেড়ে গুরুত্বহীন বিষয় নিয়ে পড়ে থাকতেন। তাঁর কটাক্ষ, “ওই সময়ে আমরা হয় দেশকে বাঁচানোর লড়াই করতে পারি, নয়তো বিমানবন্দরের ক্যান্টিনে শিঙাড়ার দাম কমানোর কথা বলতে পারি। রাঘব দ্বিতীয়টাই বেছে নিয়েছিলেন।” এমনকি গুজরাটে আপ কর্মীরা গ্রেপ্তার হলেও রাঘব সংসদে তা নিয়ে সরব হননি বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।

 রাঘব চাড্ডার মতো হেভিওয়েট নেতার এই বিদ্রোহ চব্বিশের ভোটের আগে আপ-এর অস্বস্তি অনেকটাই বাড়িয়ে দিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে রাঘবের ‘জনগণের প্রতিনিধি’ সাজার চেষ্টা আর অন্যদিকে দলের ‘মোদি-বিরোধী’ ইমেজ বজায় রাখার লড়াই—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে আপ-এর অন্দরের ফাটল এখন কার্যত রাস্তার মোড়ে চলে এসেছে। এখন দেখার, এই বিদ্রোহী তকমা নিয়ে রাঘব চাড্ডা আগামী দিনে কী পদক্ষেপ করেন, নাকি আপ-এর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের এখানেই ইতি ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *