Sundarban-Hilsa : ইলিশের খোঁজে সমুদ্রে যাওয়ার আগেই তেল-গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধিতে বিপাকে সুন্দরবনের ট্রলার ব্যবসায়ীরা, বাড়ছে খরচের বোঝা !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিজস্ব প্রতিনিধি:- বর্ষার আগমনের সঙ্গে সঙ্গে ইলিশ মরশুমের অপেক্ষায় থাকেন সুন্দরবনের হাজার হাজার মৎস্যজীবী ও ট্রলার ব্যবসায়ী। প্রতি বছর এই সময়েই গভীর সমুদ্রে পাড়ি দিয়ে ইলিশ শিকারের মধ্যে দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন তাঁরা। কিন্তু এবারের মরশুম শুরু হওয়ার আগেই উদ্বেগ বাড়ছে উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে। কারণ, ডিজেল ও বাণিজ্যিক গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি তাঁদের সামনে বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এরই পাশাপাশি দেখা দিয়েছে শ্রমিক সংকট।
দীর্ঘ দুই মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামী ১৪ জুন রাত থেকে আবার সমুদ্রে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মৎস্যজীবীরা। ট্রলারগুলির মেরামত, জাল প্রস্তুত করা এবং অন্যান্য কাজ প্রায় শেষ। তবে খরচের হিসাব কষতে গিয়ে অনেকেরই মাথায় হাত পড়েছে। ডিজেলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ১০ টাকা হারে বেড়ে যাওয়ায় ট্রলার চালানোর খরচ আগের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি বাণিজ্যিক গ্যাসের দামও প্রায় এক হাজার টাকা পর্যন্ত পেরেছে বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয় টাকা দিয়েও পর্যাপ্ত পরিমাণ গ্যাস মিলছে না বলে জানিয়েছে ট্রলার মালিকেরা।গভীর সমুদ্রে টানা কয়েকদিন মাছ ধরার জন্য বিপুল পরিমাণ জ্বালানির প্রয়োজন হয়, ফলে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়ছে ব্যবসার ওপর।
সমুদ্রে প্রায় ১০ থেকে ১৫ দিন অবস্থান করে মাছ ধরার জন্য নাবিক ও মৎস্যজীবীদের খাবার অত্যন্ত জরুরি। ফলে ডিজেলের পাশাপাশি রান্নার গ্যাসেরও প্রয়োজন। কিন্তু দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ার অভিযোগও উঠছে। ফলে খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি কাজের পরিকল্পনাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।এরই সঙ্গে যোগ হয়েছে শ্রমিক সংকট। অভিজ্ঞ মৎস্যশ্রমিকের অভাব।পর্যাপ্ত কর্মী না পেলে অনেক ট্রলার নির্ধারিত সময়ে সমুদ্রে নামানোও কঠিন হয়ে পড়বে।
ইলিশ মরশুম সুন্দরবনের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই মরশুম সফল হলে শুধু মৎস্যজীবী নয়, মাছ ব্যবসায়ী, বরফ কারখানা, পরিবহণ শিল্পসহ বহু মানুষের জীবিকা সচল থাকে। তাই জ্বালানি ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে যদি ট্রলার সমুদ্রে নামার সংখ্যা কমে যায়, তবে তার প্রভাব গোটা উপকূলীয় অর্থনীতির ওপর পড়তে পারে।
