আজকের দিনেতিলোত্তমা

ভোটারদের ভয় দেখালে ২৪ ঘণ্টায় ব্যবস্থা, ব্যর্থ হলে ওসির ‘নজিরবিহীন শাস্তি’: কড়া বার্তা কমিশনের

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে এবার নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনো ভোটারকে ভয় দেখানো বা হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠলে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। যদি পুলিশ এই নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হয়, তবে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি বা আইসি-কে ‘নজিরবিহীন পরিণতির’ মুখে পড়তে হবে।
​সোমবার সন্ধ্যায় শেষ হচ্ছে দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটের প্রচার। তার আগে রবিবার কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন নির্বাচন কমিশনের কর্তারা। সেই বৈঠকেই পুলিশ প্রশাসনকে এই কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
​বৈঠকের মূল সিদ্ধান্ত ও নির্দেশিকা:
বিস্ফোরক উদ্ধারে কড়াকড়ি: কোনো থানা এলাকায় বিস্ফোরক উদ্ধার হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো অজুহাত বা ঢিলেমি বরদাস্ত করবে না কমিশন।
সরাসরি নজরদারি: মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, প্রতিটি বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে। কমিশনের অফিস থেকে সরাসরি সেই ‘লাইভ ফিড’ দেখা হবে।
বুথে কড়া নিয়ম: ভোটার ও নির্বাচন কর্মী ছাড়া বুথের ভেতর অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। কাজে বাধা দিলে সঙ্গে সঙ্গে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
​অলিগলিতে বাইক টহল: বড় রাস্তার পাশাপাশি সরু গলিতে নজরদারির জন্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বাইক চালানোর বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বোমা দমনে এনআইএ: বোমা প্রস্তুতকারীদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, বোমা তৈরির যাবতীয় মামলার তদন্ত করবে এনআইএ।
​শান্তিপূর্ণ ভোটের আশ্বাস
​এদিন সকালে কাকদ্বীপেও পরিদর্শনে যান রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। বৈঠক শেষে তিনি জানান, “রাজ্যে ভোট হবে সম্পূর্ণ অবাধ। ভুয়া ভোট বা হুমকি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।” পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের পাশাপাশি এদিন প্রার্থী ও তাঁদের এজেন্টদের সঙ্গেও কথা বলেন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত ও সিইও। তাঁদের অভাব-অভিযোগ ও আশঙ্কার বিষয়গুলি গুরুত্ব দিয়ে শোনার পর তা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
​নির্বাচন কমিশনের এই অতি-সক্রিয়তা এবং কড়া বার্তার পর দক্ষিণবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর এখন কড়া নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল। প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা—শান্তি বিঘ্নিত হলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *