আজকের দিনেতিলোত্তমারাজনীতি

তৃণমূল ভাঙতেই বেসুরো ! ঋতব্রত ও দিদিকে নিশানা বাবুলের

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা:- ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর দলটিতে বড়সড় ধস নেমেছে। দল ভেঙে গঠিত হয়েছে ‘আদি তৃণমূল’ ও ‘নব তৃণমূল’ ব্লক। আর এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একরকম কোণঠাসা করে নব্য তৃণমূলের বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন দল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন রাজ্য রাজনীতির অন্দরে বিতর্কের ঝড় উঠেছে, ঠিক তখনই সমাজমাধ্যমে এক দীর্ঘ পোস্ট করে মুখ খুললেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়।

পদত্যাগ না করায় ঋতব্রতকে খোঁচা ও ‘সাপ’ বলে কটাক্ষ

তৃণমূল কংগ্রেস ভাঙনের রাতেই নিজের ফেসবুক পোস্টে নাম না করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র খোঁচা দেন বাবুল। তিনি লেখেন, “নিজের দলের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেওয়ার পূর্ণ অধিকার আপনার আছে। আমিও তা করেছি। কিন্তু সেই অবস্থানকে সম্মান জানাতে হলে সাংসদ বা বিধায়ক পদ থেকেও সরে দাঁড়ানো উচিত। কারণ, আপনি দলের প্রতীক, নেতৃত্ব ও ব্যানারের অধীনে ভোটে লড়েছিলেন।”

দলের ভালো সময়ে চুপ থেকে দল হারতেই ঋতব্রতর এভাবে অন্দরে বিভাজন তৈরি করা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন বাবুল। একই সাথে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় তিনি লেখেন, “একজন মানুষ আমাকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে! কখনও ভাবিনি, আমাদের চারপাশে একটা সাপ মানুষের ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়াচ্ছিল।”

এই প্রসঙ্গে বিজেপির প্রতি তাঁর সতর্কবার্তা, “এখন শুধু আশা করি, ভারতীয় জনতা পার্টি যেন অন্য অনেক রাজ্যের মতো তাকে (ঋতব্রতকে) দলে টেনে নেওয়ার ভুল না করে।”

মমতার পুরনো ‘ভুল’ মনে করালেন বাবুল

ঋতব্রতকে আক্রমণের পাশাপাশি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতীতের কিছু পদক্ষেপের বিরুদ্ধেও সুর চড়িয়েছেন বাবুল সুপ্রিয়। সরকারি অর্থ তছরুপের অভিযোগ শোনার পরই সুপ্রিমোর উচিত ছিল ব্যবস্থা নেওয়া—এমনটা দাবি করে বাবুল লেখেন,“দিদি নিশ্চয়ই একটা বড় ভুল করেছিলেন। ক্ষমতায় আসার প্রথম দিন থেকেই যারা দুর্নীতি, সরকারি তহবিল তছরুপ বা নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছিল, তাদের হাত-পা কেটে না ফেলে বা কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে তিনি ভুল করেছেন। তাদের অনেকেই এখন ওই ‘৬০’-এর (বিদ্রোহী অংশ) মধ্যে আছেন! বাকিদের কেউ ভোটে হেরেছে, কেউ জেলে যাচ্ছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “যুদ্ধ ও ভালবাসায় -‘সবই ন্যায্য বা ঠিক’। সেটা রাজনীতি ও জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের রাজনীতিতেও প্রযোজ্য। রাজনৈতিক দলে থেকে ব্যক্তিগত মত প্রকাশ করা যায় না। তবুও আমি আগে করেছি, এটাকেও সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত মতামত হিসেবেই দেখা হোক।”

বাবুলের দলবদল ও বিজেপির ‘দ্বিধা’: রাজনৈতিক মহলের চর্চা

বাবুল সুপ্রিয় নিজের পোস্টে ‘নীতি’ ও ‘আদর্শের’ কথা বললেও, রাজনৈতিক মহলের একাংশ তাঁর এই অবস্থান নিয়ে উল্টো প্রশ্ন তুলছেন। ২০১৪ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়ে আসানসোল থেকে দু’বারের সাংসদ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়া বাবুল ২০২১ সালে পদ্ম ছেড়ে ঘাসফুলে নাম লেখান। ২০২২ সালে বালিগঞ্জ উপনির্বাচনে জেতার পর ছাব্বিশে তৃণমূলের টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদ হন তিনি।

ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, ক্ষমতার অলিন্দে থাকাকালীন যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে উপগ্রহের মতো ঘুরতেন এবং নীল-সাদা নবান্নের বারান্দায় বসে গান গাইতেন, আজ মমতার ক্ষমতা হাতছাড়া হতেই তাঁরা নিজেদের আখের গোছাতে বেসুরো গাইছেন। বিশেষ সূত্রের খবর, ছাব্বিশের নির্বাচনে বাংলার রাশ বিজেপির হাতে যাওয়ার পরপরই বিজেপির দিলীপ ঘোষকে ফোন করেছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। তবে এই ‘দলবদলু’ রাজনৈতিক নেতাকে এখনই কোনো আমল দিতে চাইছে না বিজেপি নেতৃত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *