আজকের দিনেবাংলার আয়না

দক্ষিণ রায়পুরে বিক্ষোভে উত্তাল জনতা, দুর্নীতির অভিযোগে চাপে পঞ্চায়েত

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,নিজস্ব প্রতিনিধি :- দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা ব্লকের দক্ষিণ রায়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতকে ঘিরে বৃহস্পতিবার তীব্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ তুলে স্থানীয় বাসিন্দারা ১৭ দফা দাবি নিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে ডেপুটেশন জমা দেন। পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সেই কারণে এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিপুল পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী।

পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী অভিযোগকারীদের একটি প্রতিনিধি দল গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসে। তবে দীর্ঘক্ষণ ধরে আলোচনা চলতে থাকায় বাইরে অপেক্ষারত সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। একসময় তাঁরা বিক্ষোভে সামিল হন এবং বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আনেন।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, পঞ্চায়েত কার্যালয়ের পাশের একটি নলকূপ দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা প্রকট হয়েছে। পাশাপাশি বনসৃজন প্রকল্পে অনিয়ম, নদী সংলগ্ন এলাকায় গাছের ডাল কেটে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, জল সরবরাহ প্রকল্পে পরিকল্পনাগত অসঙ্গতি, আবাসন প্রকল্পে দুর্নীতি এবং সরকারি পরিষেবা পেতে অর্থ লেনদেনের মতো একাধিক অভিযোগও তোলা হয়। অভিযোগ ওঠে, বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ কিংবা সাধারণ গ্রামবাসীরা প্রশাসনিক কাজের জন্য পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে গেলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পান না। এই পরিস্থিতিতে গ্রামবাসীরা অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত সমাধানের দাবি জানান। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সন্ধ্যা মণ্ডল সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে উত্তর দেওয়ার জন্য এক সপ্তাহ সময় চান।

ঘটনার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক ছিল কাট মানি প্রসঙ্গ। রায়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সভাপতি তথা পঞ্চায়েত সদস্য সুশান্ত দাস ওরফে কিরণ বিক্ষোভকারীদের সামনে জানান, যদি কেউ কাট মানি নিয়ে থাকেন, তাহলে সেই অর্থ প্রকৃত উপভোক্তাদের ফেরত দেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেবেন। তাঁর এই বক্তব্যকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

তবে বিক্ষোভকারীরা সময়সীমা মেনে নিতে রাজি হননি। তাঁদের দাবি ছিল, সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এবং অভিযোগের ব্যাখ্যা সেদিনই দিতে হবে। পরে ঢোলা থানার পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং বিক্ষোভকারীরা এলাকা ত্যাগ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *