আজকের দিনেতিলোত্তমা

সিআইডি-র নোটিসকে চ্যালেঞ্জ !গ্রেফতারি এড়াতে আদালতের দ্বারস্থ অভিষেক!

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: বিধায়কদের সই জালিয়াতি কাণ্ডে আইনি এবং রাজনৈতিক— উভয় দিক থেকেই চাপ বাড়ল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর। সিআইডি-র পাঠানো হাজিরার নোটিসকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবার সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তিনি। আদালতের কাছে নোটিস খারিজের পাশাপাশি গ্রেফতারি এড়াতে ‘রক্ষাকবচ’-এরও আবেদন জানিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ। বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায় এই মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন এবং আগামী শুক্রবারই এর শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

একদিকে যখন এই আইনি লড়াই চলছে, ঠিক তখনই দলের অন্দরে ‘নতুন তৃণমূল’ গঠন নিয়ে বিদ্রোহী বিধায়কদের তৎপরতা ঘাসফুল শিবিরের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ভবানীভবনে হাজিরা এড়ালেন অভিষেক, কালীঘাটে গিয়ে নোটিস সিআইডি-র

সই জাল কাণ্ডের তদন্তে নেমে সিআইডি সোমবার ১ মে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানীভবনে ডেকে পাঠিয়েছিল। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দর্শিয়ে এদিন হাজিরা দেননি তিনি এবং সিআইডি-কে চিঠি দিয়ে তা জানিয়ে দেন।

এরপরই শুরু হয় নতুন নাটকীয়তা:

  • কালীঘাটে সিআইডি: সোমবার বিকেলেই সিআইডি আধিকারিকদের একটি দল অভিষেকের কালীঘাটের বাড়ির সামনে গিয়ে পৌঁছায়।

  • আধ ঘণ্টা অপেক্ষা: বাড়ির ভেতরে ঢোকার অনুমতি না পেয়ে সিআইডি আধিকারিকদের প্রায় আধ ঘণ্টারও বেশি সময় বাইরে অপেক্ষা করতে হয়।

  • নতুন নোটিস: শেষমেশ অভিষেকের বাড়ি থেকে এক প্রতিনিধি বেরিয়ে এসে সিআইডি-র নোটিসটি গ্রহণ করেন। জানা গিয়েছে, নতুন নোটিসে আগামী ৮ জুন অভিষেককে পুনরায় ভবানীভবনে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশকেই বেআইনি দাবি করে হাইকোর্টে গিয়েছেন অভিষেক।

বিধানসভায় ৬০ বিধায়কের সই! তৎপর ‘নতুন তৃণমূল’

আইনি সংকটের মাঝেই তৃণমূলের অন্দরের ডামাডোল ও ফাটল এখন আরও স্পষ্ট। দলের ক্ষুব্ধ ও ‘বিদ্রোহী’ অংশটি এবার ‘নতুন তৃণমূল’ গঠন নিয়ে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছে।

রাজনৈতিক মহলে তুমুল শোরগোল ফেলে দিয়ে বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহারা ইতিমধ্যেই বিধানসভায় ৬০ জন বিধায়কের সই নিয়ে পৌঁছে গিয়েছেন। তাঁদের এই তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে তৃণমূলের একটি বড় অংশ দলনেত্রীর নির্দেশ অগ্রাহ্য করে নিজস্ব রাজনৈতিক লাইন নিতে চলেছে।

রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা: একদিকে সিআইডি-র তলব এড়াতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়া, আর অন্যদিকে ৬০ জন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে ঋতব্রতদের নতুন মঞ্চ গড়ার প্রস্তুতি— এই দুই ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করছে যে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের অন্দরের রাশ ক্রমশ আলগা হচ্ছে। শুক্রবার হাইকোর্টের রায়ের ওপর যেমন অভিষেকের আইনি ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে, তেমনই ঋতব্রতদের এই পদক্ষেপ আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে বড় কোনো ভাঙনের পূর্বাভাস কি না, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *