আজকের দিনেভারত

৬টি ঘরের লাইসেন্স নিয়ে বানানো হয় ২৫টি ঘর, তদন্তে উঠে এলো বিস্ফোরক তথ্য

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি: এ দেশে আরও একটি অগ্নিকাণ্ড, আরও বেশ কিছু মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং তার পরেই সামনে এলো ঢালাও বেনিয়মের চঞ্চল্যকর তথ্য। বুধবার (৩ জুন, ২০২৬) দক্ষিণ দিল্লির মালভিয়া নগরের হৌজ রানি এলাকার ‘ফ্লোরিশ স্টে’ (Floris Stay) নামক একটি পাঁচতলা হোটেলে ভয়াবহ আগুনে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৩৭ জন। মৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিদেশি পর্যটক রয়েছেন, যাঁরা মূলত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে এসেছিলেন।

তদন্তে নেমে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ও দিল্লি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের রিপোর্টে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা চোখ কপালে তোলার মতো।

৬টি ঘরের অনুমোদন, ব্যবসা ২৫টি ঘরে!

দিল্লি সরকারের ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ স্কিমের অধীনে ওই হোটেলটিকে মাত্র ৬টি ঘর পরিচালনার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, এই প্রকল্পের আওতায় সর্বোচ্চ ৮টি ঘর এবং ১৬টি শয্যা রাখার অনুমতি মেলে। অথচ, সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিনের পর দিন সেখানে ২৫ থেকে ২৮টি ঘর বানিয়ে রমরমিয়ে ব্যবসা চালানো হচ্ছিল। এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, প্রশাসনের কোন অংশের মদতে এবং কত টাকার দুর্নীতির বিনিময়ে রাজধানী শহরের বুকে এমন বেআইনি কারবার চলছিল? স্থানীয় বিধায়ক সতীশ উপাধ্যায় এই বেনিয়মের অভিযোগ একেবারে উড়িয়ে দেননি, তিনি জানিয়েছেন বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দমকল আসতে ৫০ মিনিট দেরি? তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

আম আদমি পার্টির নেতা সোমনাথ ভারতী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে বর্ণনা করেন। সেই সঙ্গেই তিনি এক মারাত্মক অভিযোগ তুলে বলেন, “খবর পাওয়ার অন্তত ৫০ মিনিট পর দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এই ভবনটি আগে খাদি গ্রাম ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হতো, পরে তা হোটেল করা হয়।”

যদিও দমকল সূত্রের দাবি, সকাল ৯:৪৫ নাগাদ হোটেলের বেসমেন্টে থাকা ‘লেমন গ্রিন’ নামের রেস্তরাঁ থেকে প্রথম ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ১০টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে গিয়ে বেসমেন্ট ও ওপরের তলা থেকে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করে।

প্রাণ বাঁচাতে ওপর থেকে লাফ দুই মহিলার

ভোররাতের দিকে আগুন লাগায় অতিথিদের অধিকাংশই তখন ঘুমাচ্ছিলেন। ধোঁয়ায় পুরো বিল্ডিং ভরে যাওয়ায় প্রাণ বাঁচাতে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় সামনে আসা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আগুন ও ধোঁয়ার হাত থেকে বাঁচতে দুই মহিলা ভবনের ওপর থেকে নিচে ঝাঁপ দিচ্ছেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বুদ্ধিমত্তা দেখিয়ে আগে থেকেই রাস্তায় গদি ও ম্যাট্রেস পেতে রাখায় তাঁদের প্রাণ রক্ষা পায়। আহতদের দ্রুত সাকেতের ম্যাক্স হাসপাতাল এবং এইমস ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ক্ষতিপূরণ ও শীর্ষ নেতৃত্বের শোকপ্রকাশ

এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা। নিহতদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী:

  • মৃতদের পরিবারকে: প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে ২ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে।

  • আহতদের চিকিৎসার জন্য: প্রত্যেক আহত ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

আপাতত উদ্ধারকাজ শেষ হলেও, হোটেলের লাইসেন্স জালিয়াতি, ফায়ার সেফটির অভাব এবং নিয়মভঙ্গের এই মারাত্মক অভিযোগ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও ডিডিএমএ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *