ইন্ডিয়া বৈঠকের শুরুতেই নজিরবিহীন ছবি, সোনিয়াকে জড়িয়ে ধরলেন মমতা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- পরিষদীয় দলের পর এবার লোকসভাতেও সংসদীয় দলও হাতছাড়া হল তৃণমূলের। যখন এই ঘটনা ঘটল যখন তখন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতেই ছিলেন। কারণ ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে রবিবারই দিল্লি উড়ে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৮ জনের মধ্যে তৃণমূলের প্রায় ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ’তে যোগ দিতে চেয়ে চিঠি দিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে। একইসঙ্গে বিক্ষুব্ধদের দাবি, এই সংখ্যা আরও বাড়বে। এই রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে রইলেন মাত্র আট সাংসদ। রাজ্যে পালাবদলের পরেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে শুরু করেন বিধায়ক থেকে সাংসদ সহ নীচু তলার কর্মীরাও।
বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে শুরু হয় বিদ্রোহ। এর পরেই পরিষদীয় দলের মালিকানা হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ৮০ জনের মধ্যে ৫৮ জন বিধায়কই নেত্রীর হাত ছেড়েছেন। এবার সংসদীয় দলেও ভাঙন। মমতা যখন ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে, তাঁর দিল্লিতে থাকাকালীনই এই ভাঙন। সবাই যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে যাচ্ছেন, সেই সময় নজিরবিহীন ছবি দেখা গেল বৈঠকের শুরুতেই। সোনিয়া গান্ধীকে জড়িয়ে ধরলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকেও তাঁর পাশে বসতে দেখা যায় তৃণমূল সুপ্রিমোকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এনডিএ ব্লকে যুক্ত হতে চেয়ে সই করলেন কাকলি ঘোষদস্তিদার (বারাসত), প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় (হাওড়া), শতাব্দী রায় (বীরভূম), অসিত মাল (বোলপুর), বাপি হালদার (মথুরাপুর), শর্মিলা সরকার (বর্ধমান পূর্ব), ইউসুফ পাঠান (বহরমপুর), দেব (ঘাটাল), আবু তাহের (মুর্শিদাবাদ) এবং খলিলুর রহমান (জঙ্গিপুর), রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (হুগলি), জুন মালিয়া (মেদিনীপুর), জগদীশ বাসুনিয়া (কোচবিহার), কালীপদ সোরেন (ঝাড়গ্রাম), অরূপ চক্রবর্তী (বাঁকুড়া), পার্থ ভৌমিক (বারাকপুর)। রয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন সাংসদ। অপরদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, সৌগত রায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কীর্তি আজাদ সহ সায়নী ঘোষ। তবে এই এহেন পরিস্থিতিতে তৃণমূলের প্রতীক কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে জটিলতা বাড়তে পারে।
