সোনা পাপ্পুর মামলায় ইডির তলব শ্রেয়া পান্ডে ঘনিষ্ঠ কল্যাণ শুক্লাকে
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- কলকাতার কুখ্যাত জমি দখলদারি মামলায় এবার ইডির নজরে তৃণমূল নেতা কল্যাণ শুক্লা। সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারের মামলায় ধৃত ব্যবসায়ী জয় কামদারের সূত্র ধরে কল্যাণ শুক্লাকে তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। মঙ্গলবার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেন তিনি।
ইডি সূত্রে খবর, কল্যাণ শুক্লার আরবানার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে জয় কামদারের সঙ্গে যোগসূত্রের একাধিক তথ্য মিলেছিল। জয় কামদারের মোবাইলের চ্যাট হিস্ট্রিতেও কল্যাণ শুক্লা সংক্রান্ত তথ্য পেয়েছে ইডি। সেই সব নথি যাচাই করতেই এদিন তলব করা হয় কল্যাণকে। বাজেয়াপ্ত করা ৩টি মোবাইলের তথ্য নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। সম্প্রতি আদালতে ইডি দাবি করে, প্রোমোটার-পুলিশ-নির্যাতনকারী এই PPP মডেলে চলত জমি দখলদারির সিন্ডিকেট। ৭ কোটির বেশি মূল্যের সম্পত্তি মাত্র ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকায় কেনা হয়েছিল। প্রবাসী বা প্রবীণ নাগরিকদের সফট টার্গেট করে ভুয়ো মামলায় ফাঁসিয়ে থানায় ডেকে হয়রানি করা হত। নেপথ্যে মদত দিতেন কলকাতা পুলিশের DC শান্তনু সিন্হা বিশ্বাস। আর সামনে থেকে ভয় দেখিয়ে জমি দখলের কাজ করত বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু। কাঁকুলিয়ার বোমা-গুলিকাণ্ডে নাম জড়ানোর পর থেকে বেপাত্তা ছিলেন সোনা পাপ্পু। রাজ্যে পালাবদলের পর সোমবার নিজেই ইডি দফতরে হাজির হন তিনি। ৯ ঘণ্টা জেরার পর গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। এই মামলায় আগেই গ্রেফতার হয়েছেন ব্যবসায়ী জয় এস কামদার ও DC শান্তনু সিন্হা বিশ্বাস।
ইডির দাবি, এসপি কনস্ট্রাকশন নামের কোম্পানিতে আড়াই বছরে ২ কোটি ১৪ লক্ষ টাকা নগদ জমা পড়েছে। মোট লেনদেন হয়েছে ১৫ কোটি টাকার। সোনা পাপ্পুর স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে ৬ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা।
রাজ্যে পালাবদলের পর একের পর এক দুর্নীতি মামলায় তৃণমূল নেতাদের নাম জড়াচ্ছে। সোনা পাপ্পু, জয় কামদার, শান্তনু সিন্হা বিশ্বাসের পর এবার কল্যাণ শুক্লা। ইডির জেরায় আরও কোনও রাঘব বোয়ালের নাম উঠে আসে কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
