আজকের দিনেগ্রীন রুম

নতুন সরকারের কাছে সিঙ্গল স্ক্রিনগুলি খোলার আর্জি যিশুর

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের পর বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেও লেগেছে পরিবর্তনের হাওয়া। ছাব্বিশের ভোটে টলিপাড়ার ‘বিশ্বাস দুর্গে’র পতন ঘটতেই ইন্ডাস্ট্রির দুর্নীতি ধুয়ে-মুছে সাফ করতে ‘অ্যাকশনে’ নেমে পড়েছেন রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারীরা। এমন এক আবহে টলিউডের অন্দরে এখন ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’ রব। এই পরিস্থিতিতে বাংলা সিনেমা শিল্পের স্বার্থে নতুন বিজেপি সরকারের কাছে নিজের প্রত্যাশা ও আর্জি স্পষ্ট করলেন অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত।

সিঙ্গল স্ক্রিন বাঁচাতে আর্জি যিশুর

আধুনিকতার যুগে মাল্টিপ্লেক্সের দাপটে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের সিঙ্গল স্ক্রিন সিনেমা হলগুলি দীর্ঘদিন ধরেই ধুঁকছে, যার বড় প্রভাব পড়েছে বাংলা সিনেমার ব্যবসায়। অতিমারী-পরবর্তী সময়ে এই চিত্র আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

সম্প্রতি করিশ্মা কাপুর অভিনীত বলিউড সিরিজ ‘ব্রাউন’-এর প্রচার অনুষ্ঠানে এসে এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন যিশু সেনগুপ্ত। সেখানে রাজ্যের প্রেক্ষাগৃহগুলির দুর্দশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “সদ্য নির্বাচিত সরকারের কাছে আমার একটাই প্রত্যাশা। সেটা হল, আমি সত্যিই চাই বন্ধ হয়ে যাওয়া সিঙ্গলস্ক্রিন হলগুলো যেন পুনরায় খোলার ব্যবস্থা করা হয়। আমার কেরিয়ারের গোড়ার দিকে প্রায় ৭০০-৮০০টি সিঙ্গলস্ক্রিন প্রেক্ষাগৃহ ছিল। কিন্তু আজ সেখানে মেরেকেটে একশোটির মতো স্ক্রিন টিকে রয়েছে। আগে যেখানে ২,৮০০টি শো থাকত, সেটা এখন কমে গিয়ে দু’শো-তিনশো’তে এসে ঠেকেছে। আর ঠিক একারণেই মার খাচ্ছে বাংলা সিনেমা।”

টলিউডের ‘ব্যান সংস্কৃতি’ নিয়ে বিস্ফোরক অভিনেতা

বিগত এক দশকে টলিউডকে রাজনীতির নাগপাশ থেকে মুক্ত করার দাবি বার বার উঠেছে। ফেডারেশনের দাপট এবং টলিপাড়ায় ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর একচ্ছত্র প্রতিপত্তি ও ‘ব্যান কালচার’ (নিষিদ্ধ সংস্কৃতি) নিয়ে কম হইচই হয়নি। রাজ্যে সরকার বদলের পর এখন সকলেই একযোগে এই সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন।

ইন্ডাস্ট্রির এই অন্ধকার দিকটি নিয়ে মুখ খুলে নিজের দায়ও স্বীকার করেছেন যিশু। তাঁর মতে,  অতীতে টলিউডে যে নিষিদ্ধ করার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তার দায় আদতে ইন্ডাস্ট্রির মানুষদেরই। কারণ, সেসময়ে সকলেই সেই অন্যায় দাবির কাছে নতি স্বীকার করেছিলেন।  সেই ভুল ভুলে এখন যাতে আগামী দিনে সিনেমা শিল্পের সার্বিক মঙ্গল হয়, সেটাই টলিউডের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মনে করছেন অভিনেতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *