বিধানসভায় তৃণমূল ভাঙনের ইঙ্গিত, ৫৯ বিধায়কের সই নিয়ে স্পিকারের কাছে যাচ্ছেন ঋতব্রত
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- মঙ্গলেই বিধানসভায় শক্তি দেখানোর কথা থাকলেও জাদু সংখ্যা না ছোঁয়ায় পিছিয়ে যান বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে রাতের মধ্যেই ছবিটা বদলেছে। বুধবার সকাল ১০টায় বিধানসভায় পৌঁছেছেন ঋতব্রত। সূত্রের খবর, সন্দীপন সাহা এলেই বৈঠক সেরে ৫৯ জন বিধায়কের সই সম্বলিত চিঠি স্পিকারের কাছে জমা দেবেন তিনি। তৈরি হতে পারে ‘আসল তৃণমূল’।
গত কয়েকদিনে কালীঘাটে জয়ী বিধায়কদের নিয়ে একাধিকবার বৈঠক ডেকেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু বেশিরভাগ বিধায়কের দেখা মেলেনি। রবিবার ৮০ জনের মধ্যে প্রায় ৬০ জন অনুপস্থিত থাকায় বৈঠক বাতিল হয়। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ঋতব্রতর হাতে এখন ৫৯ জন বিধায়ক রয়েছে বলে সূত্রের দাবি। অর্থাৎ পরিকল্পনামাফিকই দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছিলেন তাঁরা।মঙ্গলবার মমতার ধর্নাস্থলেও গুটি কয়েক পুরনো নেতা ছাড়া কাউকে দেখা যায়নি। কিন্তু বুধবার সকাল থেকেই বিধানসভায় ভিড় জমিয়েছেন শিউলি সাহা, সাবিনা ইয়াসমিন, আখরুজ্জামান, সমীর জানা-সহ বিভিন্ন জেলার বিধায়করা।শোনা যাচ্ছে, স্পিকার এলেই চিঠি জমা দেবেন ঋতব্রত। নতুন তৃণমূল হলে বিরোধী দলনেতা হতে পারেন ঋতব্রত নিজেই। সহকারী দলনেতা হবেন সন্দীপন সাহা ও জাভেদ খান। চিফ হুইপ হতে পারেন আখরুজ্জামান। যদিও বিধায়কদের দাবি, বিরোধী দলনেতা বাছতেই আজ হাজির হয়েছেন তাঁরা।উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাতে স্পিকারকে সঙ্গে নিয়ে অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। মনে করা হচ্ছে, ‘মহারাষ্ট্র মডেল’-এ তৃণমূল ভাঙা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আজ বিধানসভায় উপস্থিত থাকবেন শুভেন্দুও।
৫৯ বিধায়ক নিয়ে ঋতব্রত শিবির চিঠি জমা দিলে কার্যত দু’ভাগ হয়ে যাবে তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ লড়াইয়ের ফসল ভেঙে তৈরি হতে পারে নতুন দল। ‘মহারাষ্ট্র মডেল’ বাংলায় কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
