নিট-বিতর্কের মাঝেই এবার সিইউইটি-তেও বিভ্রাট!
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে ইতিমধ্যে মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET) নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্ক চলছে। চারিদিকের কেলেঙ্কারি ও আইনি জটিলতায় ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র বিশ্বাসযোগ্যতা যখন তলানিতে, ঠিক তখনই শনিবার (৩০ মে, ২০process৬) এনটিএ-র আরও এক মেগা পরীক্ষা ‘সিইউইটি ইউজি ২০২৬’ (CUET UG 2026) ঘিরে চরম অব্যবস্থা ও বিশৃঙ্খলা সামনে এলো। দেশের একাধিক পরীক্ষাকেন্দ্রে সকালের শিফটের পরীক্ষা সময়মতো শুরু করা যায়নি। তীব্র দাবদাহ ও চড়া রোদের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরীক্ষার্থী এবং তাঁদের অভিভাবকরা। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় তড়িঘড়ি অফিসিয়াল নোটিশ জারি করে সাফাই দিতে বাধ্য হয়েছে এনটিএ।
টিসিএস-এর সার্ভার ডাউন: থমকে গেল পরীক্ষা!
ভারতের অধিকাংশ প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক স্তরে ভর্তির একমাত্র চাবিকাঠি হলো এই ‘সিইউইটি ইউজি’ স্কোর। এনটিএ তাদের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে স্বীকার করে নিয়েছে যে, পরীক্ষা পরিচালনাকারী টেকনিক্যাল পার্টনার সংস্থা ‘টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস’ (M/s TCS)-এর এন্ডে একটি বড়সড় প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা টেকনিক্যাল গ্লিচ দেখা দেয়।
সকালে পরীক্ষা শুরু হতেই কম্পিউটার স্ক্রিন এবং সার্ভার পুরোপুরি ডাউন হয়ে যায়। পরীক্ষার্থীরা নিজেদের সিটে বসে কেবলই অপেক্ষা করতে থাকেন। রাঁচি, নয়ডা-সহ একাধিক শহর থেকে খবর আসে যে, সকাল ৯টার পরীক্ষা দুপুর ১টা পর্যন্ত শুরুই করা যায়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা জানান, পরীক্ষা শেষ হওয়ার সময় পেরিয়ে গেলেও পড়ুয়ারা হলের বাইরে আসতে পারেনি।
দুপুরের শিফটের সময় পরিবর্তন: নতুন সময়সূচি
সকালের শিফটের এই নজিরবিহীন দেরির সরাসরি প্রভাব পড়েছে দুপুরের সেশনের ওপর। ব্যাপক আফসোস ও হট্টগোল এড়াতে এনটিএ তড়িঘড়ি নির্দেশিকা জারি করে দুপুরের শিফটের সময় পরিবর্তন বা রিশিডিউল করেছে।
দুপুরের শিফটের সংশোধিত সময়সূচি:
রিপোর্টিং ও এন্ট্রি (প্রবেশ): দুপুর ২:৩০ মিনিট থেকে শুরু।
পরীক্ষা শুরুর সময়: দুপুর ৩:০০টের পরিবর্তে পিছিয়ে এখন বিকাল ৪:০০টে।
ক্ষতিপূরণ হিসেবে অতিরিক্ত সময়, মাঝে বেরনোয় নিষেধাজ্ঞা
পরীক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে এনটিএ জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে যাদের সময় নষ্ট হয়েছে, তাদের জন্য ‘কম্পেনসেটরি টাইম’ বা অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ সময় দেওয়া হবে। কোনও পরীক্ষার্থীর সময়ের ক্ষতি হবে না। তবে পরীক্ষা ব্যবস্থার গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে এনটিএ কড়া নিয়ম কার্যকর করেছে যে, সকালের শিফটের কোনও পরীক্ষার্থী সম্পূর্ণ পরীক্ষা শেষ না করে বা নির্ধারিত সময়ের আগে হল থেকে বের হতে পারবেন না।
ক্ষমা চাইল এনটিএ: জারি হলো হেল্পলাইন ও ইমেল
পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের এই চরম মানসিক হয়রানি ও অসুবিধার জন্য দুঃখপ্রকাশ ও ক্ষমাপ্রার্থনা করেছে এনটিএ। যে কোনও ধরণের অভিযোগ, জিজ্ঞাসা বা সাহায্যের জন্য হেল্পলাইন নম্বর ও ইমেল আইডি চালু করা হয়েছে:
-
হেল্পলাইন নম্বর: +91-11-40759000
-
অফিসিয়াল ইমেল: cuet-ug@nta.ac.in
-
অফিসিয়াল ওয়েবসাইট: cuet.nta.ac.in
সোশ্যাল মিডিয়ায় পরীক্ষা বাতিলের দাবি
এদিকে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) এনটিএ-র পোস্টের নিচে কমেন্ট সেকশনে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন শত শত পরীক্ষার্থী। নয়ডার সেক্টর ৬৪-সহ দেশের বেশ কয়েকটি সেন্টারে পরীক্ষা পুরোপুরি বাতিল করে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করছেন পরীক্ষার্থীরা। নিট কেলেঙ্কারির পর সিইউইটি-র এই মহাসঙ্কট দেশের সামগ্রিক পরীক্ষা ব্যবস্থার পরিকাঠামো নিয়ে ফের একবার মস্ত বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল।
