নামখানায় নদী বাঁধে ফাঁকা বস্তা! জোয়ারে মাটি ধুয়ে যেতেই বেরিয়ে এল কোটি টাকার দুর্নীতি
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিজস্ব প্রতিনিধি: -নদী বাঁধের ভিতরে মাটি বা বালির বদলে স্তরে স্তরে সাজানো শুধু ফাঁকা বস্তা। ওপরে সামান্য মাটির প্রলেপ। জোয়ারের ধাক্কায় মাটি সরে যেতেই বেরিয়ে এল ভয়াবহ দুর্নীতির ছবি। শুক্রবার ঘটনাকে ঘিরে উত্তাল দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা ব্লকের রাজনগর।
অভিযোগ, চিনাই নদীর পাড়ে প্রায় ৫০০ মিটার নদী বাঁধ মেরামতের কাজে হয়েছে নজিরবিহীন জালিয়াতি। নিয়ম অনুযায়ী বস্তার মধ্যে মাটি বা বালি ভরে পাইলিং করার কথা। কিন্তু খরচ বাঁচাতে ঠিকাদার সংস্থা সম্পূর্ণ ফাঁকা বস্তা ব্যবহার করেছে। তার ওপর শুধু মাটির আস্তরণ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল।প্রায় তিন মাস আগে হওয়া সেই কাজের আসল চেহারা সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে। শুক্রবার কয়েকশো গ্রামবাসী হুজাইতের খেয়াঘাট সংলগ্ন নদী বাঁধের নিচ থেকে শতাধিক ফাঁকা বস্তা টেনে বের করেন। পরে সেই বস্তাগুলি বাঁধের ওপর স্তূপ করে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত সেচ দপ্তরের কিছু আধিকারিক, ঠিকাদার সংস্থা এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ। মৌমিতা দাস নামে এক বাসিন্দা জানান, “কাজের সময় অনিয়মের প্রতিবাদ করেছিলাম। কিন্তু তৃণমূলের নেতারা ভয় দেখিয়ে আমাদের চুপ করিয়ে দেয়। নিজেদের লোক দিয়ে কাজ করিয়ে দুর্নীতি আড়াল করা হয়েছে।”আর এক বাসিন্দা ধীরেন দেবনাথের অভিযোগ, বাঁধ এলাকায় ‘ম্যানগ্রোভ প্ল্যান্টেশন’-এর সরকারি বোর্ড থাকলেও বাস্তবে একটিও ম্যানগ্রোভ রোপণ হয়নি। তাঁর কথায়, “সরকারি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এই বাঁধ ভেঙে গেলে নোনা জল ঢুকে কয়েক হাজার মানুষের ঘরবাড়ি ও চাষের জমি নষ্ট হয়ে যাবে।”কৃষক অমল দাসের আশঙ্কা, “এই বাঁধের পাশেই আমাদের চাষের জমি। দুর্নীতির জন্য যদি বাঁধ ভেঙে যায়, তাহলে পথে বসতে হবে।”
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা। গ্রামবাসীদের দাবি, অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে। অস্থায়ী মেরামতের বদলে স্থায়ী কংক্রিটের নদী বাঁধ নির্মাণের দাবিতেও সরব হয়েছেন তাঁরা।
