আজকের দিনেতিলোত্তমা

ED Raid : সোনা পাপ্পু মামলায় কলকাতার তিন জায়গায় ইডির তল্লাশি !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা: – ‘সোনা পাপ্পু’র বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক মামলার তদন্তে শুক্রবার কলকাতার তিন জায়গায় একযোগে অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ইডি সূত্রে খবর, তল্লাশিতে উঠে এসেছে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের তথ্যও।

ইডি ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থার দায়ের করা মামলায় সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে মূলত শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দুবাই ও বাংলাদেশ রুটে কয়েকশো কোটি টাকার সোনা পাচার, হাওয়ালার মাধ্যমে সেই টাকা বিদেশে পাঠানো এবং ভুয়ো আমদানি-রফতানি সংস্থা খুলে বেআইনি লেনদেন চালানোর অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ ও কাস্টমসের একাংশকে মোটা টাকার বিনিময়ে চক্রে যুক্ত রাখা ও আগাম তথ্য পাওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। এই মামলার সূত্র ধরেই শুক্রবার সকাল থেকে ইডি চক্রবেড়িয়া, কসবা ও রয়েড স্ট্রিটে একযোগে তল্লাশি চালায়। চক্রবেড়িয়ায় ব্যবসায়ী অতুল কাটারিয়ার বাড়ি ও অফিসে হানা দেন আধিকারিকরা। ইডির সন্দেহ, পাচার করা সোনা গলিয়ে গয়না বানিয়ে বাজারে ছাড়ার কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। কসবায় কলকাতা পুলিশের এক সাব ইন্সপেক্টরের ফ্ল্যাটেও তল্লাশি চলে। অভিযোগ, মাসোহারার বিনিময়ে ওই অফিসার চক্রকে সুরক্ষা দিতেন এবং পুলিশি অভিযানের আগাম খবর পাচার করতেন। তৃতীয় অভিযানটি হয় রয়েড স্ট্রিটের একটি বিলাসবহুল হোটেলে। সূত্রের দাবি, এই হোটেলকে ঘাঁটি বানিয়ে কোটি কোটি টাকার লেনদেন ও গোপন বৈঠক করত চক্র। তদন্তে ইতিমধ্যেই উঠে এসেছে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের নাম। ইডি সূত্র মারফত জানা গেছে, সোনা পাপ্পুর সঙ্গে শান্তনুর একাধিক আর্থিক লেনদেনের নথি মিলেছে। অভিযোগ, শান্তনুর রিয়েল এস্টেট ও ট্রেডিং সংস্থার মাধ্যমে পাচারের টাকা বিনিয়োগ করে সাদা করা হত। কলকাতার বাইরে শান্তনুর অন্যান্য ব্যবসাতেও সোনা পাপ্পুর টাকা খাটছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে এ বিষয়ে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সূত্র মারফত জানা গেছে, ইডি এখন তিনটি দিক সামনে রেখে তদন্ত এগোচ্ছে। প্রথমত, অতুল কাটারিয়া, শান্তনু সিনহা বিশ্বাস ও অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, সম্পত্তি ও ভুয়ো সংস্থার হদিস করে আর্থিক লেনদেনের জাল ধরার চেষ্টা চলছে। দ্বিতীয়ত, আজ বাজেয়াপ্ত হওয়া মোবাইল, ল্যাপটপ ও হার্ডডিস্ক থেকে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, ইমেল ও লেনদেনের ডিজিটাল তথ্য উদ্ধার করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তৃতীয়ত, দুবাই ও বাংলাদেশের হাওয়ালা অপারেটরদের সঙ্গে সোনা পাপ্পুর আন্তর্জাতিক যোগ খুঁজতে অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থার সাহায্য নিচ্ছে ইডি।

সোনা পাপ্পুকে জেরা করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই আজকের অভিযান বলে দাবি ইডির। তদন্তকারীদের মতে, এই চক্রের শিকড় অনেক গভীরে এবং শুধু ব্যবসায়ী বা পুলিশ নয়, আরও প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম আগামী দিনে সামনে আসতে পারে। আপাতত বাজেয়াপ্ত নথি ও ডিজিটাল তথ্য যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ করবে ইডি। প্রয়োজনে শান্তনু সিনহা বিশ্বাস সহ আরও কয়েকজনকে তলব করা হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *